পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


3 & 8 সাহিত্যের পথে হষ, যা আমাদের মনের জিনিস ন্য তার মধ্যেও মন প্রবেশ করে তাকে মনোময করে তুলতে পারে। এ লীলা মাহুষের, এই লীলায তার আনন্দ। যখন মানুষ বলে ‘কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যে রে’ তখন বুঝতে হবে, যে মানুষকে মন দিযে নিজেরই তাবরসে আপন করে তুলতে হয তাকেই আপন করা হয নি— সেইজন্তে 'হারাযে সেই মাহুষে তার উদ্দেশে দেশ-বিদেশে বেড়াই ঘুরে’। মন তাকে মনের করে নিতে পারে নি বলেই বাইরে বাইরে ঘুরছে। মানুষের বিশ্ব মানুষের মনের বাইরে যদি থাকে সেটাই নিরানন্দের কারণ হয । মন যখন তাকে আপন করে নেয তখনই তার ভাষায শুরু হয সাহিত্য, তার লেখনী বিচলিত হয নতুন গানের বেদনায । মানুষও বিশ্বপ্রকৃতির অন্তর্গত। নানা অবস্থার ঘাতে প্রতিঘাতে বিশ্ব জুড়ে মানবলোকে হৃদযাবেগের ঢেউখেলা চলেছে। সমগ্র করে, একান্ত করে, স্পষ্ট করে তাকে দেখার দুটি মস্ত ব্যাঘাত আছে। পর্বত বা সরোবর বিরাজ করে অক্রিয অর্থাৎ প্যাসিভ -ভাবে ; আমাদের সঙ্গে তাদের যে ব্যবহার সেটা প্রাকৃতিক, তার মধ্যে মানসিক কিছু নেই, এইজন্যে মন তাকে সম্পূর্ণ অধিকার করে আপন ভাবে ভাবিত করতে পারে সহজেই। কিন্তু মানবসংসারের বাস্তব ঘটনাবলীর সঙ্গে আমাদের মনের যে সম্পর্ক ঘটে সেটা সক্রিয। দুঃশাসনের হাতে কৌরবসভায দ্রৌপদীর যে অসম্মান ঘটেছিল তদনুরূপ ঘটনা যদি পাড়ায ঘটে তা হলে তাকে আমরা মানবভাগ্যের বিরাট শোকাবহ লীলার অঙ্গরূপে বড়ো করে দেখতে পারি নে। নিত্য ঘটনাবলীর ক্ষুদ্র সীমায বিচ্ছিন্ন একটা অন্তাষ ব্যাপার বলেই তাকে জানি, সে একটা পুলিস-কেস-রূপেই আমাদের চোখে পড়ে— ঘৃণার সঙ্গে, ধিক্কারের সঙ্গে, প্রাত্যহিক সংবাদ-আবর্জনার মধ্যে তাকে বেটিয়ে ফেলি। মহাভারতের খাণ্ডববনদাহ বাস্তবতার একান্ত নৈকট্য থেকে বহু দূরে গেছে— সেই দুরত্ববশত সে অকর্তৃক হয়ে