পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যের পথে ماه ۵ নিকটে পেলে। খাটি ইতিহাসের পক্ষ থেকে তার বাছাইযে অনেক দোষ থাকতে পারে, অনেক অত্যুক্তি অনেক উনোক্তি হয়তো আছে এর মধ্যে ; বিশুদ্ধ তথ্যবিচারের পক্ষে যে-সব দৃষ্টান্ত অত্যাবশুক তার হযতো অনেক বাদ পড়ে গেছে। কিন্তু কালাইলের রচনায যে সুনিবিড় সমগ্রতার ছবি আঁকা হযেছে তার উপরে আমাদের মন অব্যবহিতভাবে যুক্ত ও ব্যাপ্ত হতে বাধা পায না ; এইজন্তে ইতিহাসের দিক থেকে যদি-বা সে অসম্পূর্ণ হয তবু সাহিত্যের দিক থেকে সে পরিপূর্ণ। এই বর্তমান কালেই আমাদের দেশে চার দিকে খণ্ড খণ্ড ভাবে রাষ্ট্রিক উদ্যোগের নানা প্রযাস নানা ঘটনায উৎক্ষিপ্ত হযে উঠছে। ফৌজদারি শাসনতন্ত্রের বিশেষ বিশেষ আইনের কোঠায তাদের বিবরণ শুনছি ংবাদপত্রের নানাজাতীয আগুবিলীযমান মর্মরধবনির মধ্যে । ভারতবর্ষের এ যুগের সমগ্র রাষ্ট্ররূপের মধ্যে তাদের পূর্ণভাবে দেখবার সুযোগ হযনি ; যখন হবে তখন তারা মানুষের সমস্ত বীর্য, সমস্ত বেদনা, সমস্ত ব্যর্থতা বা সার্থকতা, সমস্ত ভুলক্রটি নিযে সংবাদপত্রের ছাযালোক থেকে উঠবে সাহিত্যের জ্যোতিষ্কলোকে। তখন জজ, ম্যাজিস্টেট, আইনের বই, পুলিসের যষ্টি, সমস্ত হবে গৌণ ; তখন আজকের দিনের ছিন্নবিচ্ছিন্ন ছোটোবডো দ্বন্দ্ব-বিরোধ একটা বৃহৎ ভূমিকায ঐক্য লাভ করে নিত্যকালের মানবমনে বিরাট মুর্তিতে প্রত্যক্ষ হবার অধিকারী হবে। মানুষের সঙ্গে মানুষের নানাবিধ সম্বন্ধ ও সংঘাত নিযে পৃথিবী জুডে আমাদের অভিজ্ঞতা বিচিত্র হষে চলেছে। সে একটা মানসজগৎ, বহু যুগের রচনা। তাকে আমরা নৃতত্ত্বের দিক থেকে, মনস্তত্ত্বের দিক থেকে, ঐতিহাসিক দিক থেকে বিচার করে মানুষের সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করতে পারি। সে হল তথ্য- সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজ । কিন্তু এই অভিজ্ঞতার জগতে আমরা প্রকাশবৈচিত্র্যবান মানুষের নৈকট্য কামনা করি। এই চাওয়াটা আমাদের মনে অত্যন্ত গভীর ও প্রবল।