পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


)や সাহিত্যের পথে সেশনে সোপরদ করা হইযাছে তবু এ খবরটারও আভাস আছে যে, আজকালকার প্রায় সকল লেখকেরই এই একই অপরাধ । বাস্তবতা না থাকা নিশ্চয়ই একটা মস্ত ফাকি । বস্তু কিছুই পাইল না অথচ দাম দিল এবং খুশি হইযা হাসিতে হাসিতে গেল এমনসব হতবুদ্ধি লোকের জন্য পাকা অভিভাবক নিযুক্ত হওযা উচিত। সেই লোকেই অভিভাবকের উপযুক্ত, কবির ফস করিযী যাহাদিগকে কলাকৌশলে ঠকাইতে না পারে, কটাক্ষে যাহারা বুঝিতে পারে বস্তু কোথায আছে এবং কোথায লাষ্ট । অতএব র্যাহারা অবাস্তব সাহিত্য সম্বন্ধে দেশকে সতর্ক করিষা দিতেছেন তাহারা নাবালক ও নালাযেক পাঠকদের জন্য কোর্ট অফ ওযার্ডস খুলিবার কাজ করিতেছেন। কিন্তু সমালোচক যত লডো বিচক্ষণ হোন-না কেন চিরকালই তাহারা পাঠকদের কোলে তুলিযা সামলাইবেন সেটা তো ধাত্রী এবং ধৃত কাহারও পক্ষে ভালো নয। পাঠকদিগকে স্পষ্ট করিযা সমজাঈযা দেওযা উচিত কোনটা বস্তু এবং কোনটা বস্তু নয। মুশকিল এই যে, বস্তু একটা নহে এবং সব জাযগায আমরা একই বস্তুর তত্ত্ব করি না । মানুষের বহুধা প্রকৃতি, তাহার প্রযোজন নানা, এবং বিচিত্র বস্তুর সন্ধানে তাহাকে ফিরিতে হয । এখন কথা এই, সাহিত্যের মধ্যে কোন বস্তুকে আমরা খুজি । ওস্তাদের বলিযা থাকেন সেটা রসবস্তু। বলা বাহুল্য, এখানে রসসাহিত্যের কথাই হইতেছে । এষ্ট রসটা এমন জিনিস যাহার বাস্তবতা সম্বন্ধে তর্ক উঠিলে ই তাহাতি পর্যন্ত গড়ায এবং এক পক্ষ অথবা উভয পক্ষ ভূমিসাৎ হইলেও কোনো মীমাংসা হয না । রস জিনিসটা রসিকের অপেক্ষ রাখে, কেবলমাত্র নিজের জোরে নিজেকে সে সপ্রমাণ করিতে পারে না। সংসারে বিদ্বান, বুদ্ধিমান, দেশহিতৈষী, লোকহিতৈষী প্রভৃতি নানা প্রকারের ভালো ভালো লোক