পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যের তাৎপর্য 》もや মহিমা সেই আদিজ্যোতিরই উপযুক্ত। কবিঞ্চষির মনে যখন সহসা সেই বেগবান শক্তিমান ছন্দের আবির্ভাব হল তখন স্বতই প্রশ্ন জাগল, এরই উপযুক্ত স্বষ্টি হওয চাই। তারই উত্তরে রচিত হল রামচরিত। অর্থাৎ এমন-কিছু যা নিত্যতার আসনে প্রতিষ্ঠিত হবার যোগ্য । যার সান্নিধ্য অর্থাৎ যার সাহিত্য মানুষের কাছে আদরণীয। মানুষের নির্মাণশক্তি বলশালী, আশ্চর্য তার নৈপুণ্য। এই শক্তি নিয়ে, এই নৈপুণ্য নিযে সে বডো বড়ে নগর নির্মাণ করেছে। এই নগরের মূর্তি যেন মানুষের গৌরব করবার যোগ্য হয, এ কথা সেই জাতির মানুষ না ইচ্ছা করে থাকতে পারে নি যাদের শক্তি আছে, যাদের আত্মসম্মানবোধ আছে, যারা সভ্য। সাধারণত সেই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নানা রিপু এসে ব্যাঘাত ঘটায— মুনফা করবার লোভ আছে, শস্তাষ কাজ সারবার কৃপণতা আছে, দরিদ্রের প্রতি ধনী কর্তৃপক্ষের ঔদাসীন্য আছে, অশিক্ষিত বিকৃতরুচি বর্বরতাও এসে পডে এর মধ্যে— তাই নির্লজ্জ নির্মমতায কুৎসিত পাটকল উঠে দাডায গঙ্গাতীরের পবিত্র শুামলতাকে পদদলিত করে, তাই প্রাসাদশ্রেণীর অন্তরালে নানাজাতীয দুরূদৃশু বসতিপাড়া অস্বাস্থ্য ও অশোভনতাকে পালন করতে থাকে আপন কলুষিত আশ্রযে, যেমন-তেমন কদর্য ভাবে যেখানে-সেখানে ঘরবাড়ি তেলকল নোংরাদোকান গলিঘুজি চোখের ও মনের পীড়া বিস্তার-পূর্বক দেশে ও কালে আপন স্বত্বাধিকার পাকা করতে থাকে। কিন্তু রিপুর প্রবলতা ও অক্ষমতার নিদর্শনস্বরূপে এই-সমস্ত ব্যত্যযকে স্বীকার করে তবুও মোটের উপরে এ কথা মানতে হবে যে, সমস্ত শহরটা শহরবাসীর গৌরব করবার উপযুক্ত যাতে হয এই ইচ্ছাটাই সত্য। কেউ বলবে না, শহরের সত্য তার কদর্য বিকৃতিগুলো । কেননা শহরের সঙ্গে শহরবাসীর অত্যন্ত নিকটের যোগ— সে যোগ স্থায়ী যোগ, সে যোগ আত্নীয়তার যোগ,