পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যের পথে এমন যোগ নয় যাতে তার আত্মাবমাননা । সাহিত্য সম্বন্ধেও ঠিক এই কথাই বলা চলে। তার মধ্যে রিপুর আক্রমণ এসে পড়ে, ভিতরে ভিতরে দুর্বলতার নানা চিহ্ন দেখা দিতে থাকে, মলিনতার কলঙ্ক লাগতে থাকে যেখানে-সেখানে। কিন্তু তবু সকল হীনতা-দীনতাকে ছাড়িয়ে উঠে যে সাহিত্যে সমগ্রভাবে মানুষের মহিমা প্রকাশ না হয় তাকে নিযে গৌরব করা চলবে না, কেননা সাহিত্যে মানুষ আপনারই সঙ্গকে— আপনার সাহিত্যকে প্রকাশ করে স্থায়িত্বের উপাদানে। কেননা চিরকালের মানুষ বাস্তব নয়, চিরকালের মানুষ ভাবুক ; চিরকালের মানুষের মনে যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশু্যে অপ্রকাশ্বে কাজ করেছে তা অভ্ৰভেদী, তা স্বৰ্গাভিমুখী, তা অপরাহত পৌরুষের তেজে জ্যোতির্ময়। সাহিত্যে সেই পরিচয়ের ক্ষীণতা যদি কোনো ইতিহাসে দেখা যায় তা হলে লজ্জা পেতে হবে ; কেননা সাহিত্যে মানুষ নিজেরই অন্তরতম পরিচয় দেয় নিজের অগোচরে, যেমন পরিচয় দেয ফুল তার গন্ধে, নক্ষত্র তার আলোকে । এই পরিচয় সমস্ত জাতির জীবনযজ্ঞে জালিয়ে তোলা অগ্নিশিখার মতো ; তারই থেকে জলে তার ভাবীকালের পথের মশাল, তার ভাবীকালের গৃহের প্রদীপ । XՀ. Գ- Ֆ8 শাস্তিনিকেতন