পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সভাপতির অভিভাষণ 〉も* মাহুষের পরিচ্য তখনই সম্পূর্ণ হয যখন সে যথার্থভাবে আপনাকে প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু, প্রকাশ তো একান্ত নিজের মধ্যে হতে পারে না। প্রকাশ হচ্ছে নিজের সঙ্গে অদ্য-সকলের সত্য সম্বন্ধে । ঐক্য একের মধ্যে নয, অনেকের মধ্যে সম্বন্ধের ঐক্যই ঐক্য। সেই ঐক্যের ব্যাপ্তি ও সত্যতা নিযেই, কী ব্যক্তিবিশেষের কী সমূহবিশেষের যথার্থ পরিচয। এই ঐক্যকে ব্যাপক ক’রে, গভীর ক’রে পেলেই আমাদের সার্থকতা । ভূবিবরণের অর্থগত যে বাংলা তার মধ্যে কোনো গভীর ঐক্যকে পাই না, কেননা বাংলাদেশ কেবল মৃন্ময পদার্থ নয, তা চিন্মযও বটে। তা যে কেবল বিশ্বপ্রকৃতিতে আছে তা নয, তার চেযে সত্যরূপে আমাদের চিৎ-লোকে আছে । মনে রাখতে হবে যে, অনেক পশুপক্ষীও বাংলার মাটিতে জন্মেছে। অথচ রযেল বেঙ্গল টাইগারের হৃদযেব মধ্যে বাঙালির সঙ্গে একায়িকতার বোধ আত্মীযতার রসযুক্ত নয ব’লেই বাঙালিকে ভক্ষণ করতে তার যেমন আনন্দ তেমন আর কিছুতে নয। কোনো সাধারণ ভূখণ্ডে জন্মলাভ -নামক ব্যাপাবের মধ্য দিযেই কোনো মানুষের যথার্থ পরিচয পাওযা যায না । তার পব, মানুষ জাতিগত ঐক্যেব মধ্য দিযেও আপন পরিচযকে ব্যক্ত করতে চেযেছে। যে-সব মানুষ স্বনিযন্ত্রিত রাষ্ট্ৰীয বিধিবিধানের যোগে এমন একটি রাজতন্ত্র রচনা কবে যার দ্বারা পররাজ্যের সঙ্গে স্বরাজ্যের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করতে পারে, এবং সেই স্বরাজ্যসীমার শাসন ও পরস্পর সহকারিতার দ্বারা নিজেদের সর্বজনীন স্বার্থকে নিযমে বিষ্কৃত ও বিস্তীর্ণ করতে পারে, তারাই হল এক নেশন। তাদের মধ্যে অল্প যতরকম ভেদ থাকৃ তাতে কিছুই আসে যায না । বাঙালিকে নেশন বলা যায না, কেননা বাঙালি এখনো আপন রাষ্ট্ৰীয ভাগ্যবিধাতা হযে ওঠে নি। অপর দিকে সামাজিক ধৰ্ম-সম্প্রদায়-গত ঐক্যের