পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সভাপতির অভিভাষণ ఆపి কারণ, ভাষার মধ্যে দিযে তাদের পরস্পরের পরিচযসাধন হতে পেরেছে এবং অপরকেও তারা আপনার যথার্থ পরিচয দান করতে পারছে। মামুষের প্রকাশের দুই পিঠ আছে। এক পিঠে তার স্বামৃভূতি ; আর-এক পিঠে অন্ত সকলের কাছে আপনাকে জানানো। সে যদি অগোচর হয তবে সে নিতান্ত অকিঞ্চিৎকর হয়ে যায। যদি নিজের কাছেই তার প্রকাশ ক্ষীণ হল তবে সে অন্তের কাছেও নিজেকে গোচর করতে পারল না। যেখানে তার অগোচরতা সেখানেই সে ক্ষুদ্র হযে রইল। আর যেখানে সে আপনাকে প্রকাশ করতে পারল সেখানেই তার মহত্ব পরিস্ফুট হল। এই পরিচযের সফলতা লাভ করতে হলে ভাষা সবল ও সতেজ হওয চাই । ভাষা যদি অস্বচ্ছ হয, দবিদ্র হয, জড়তাগ্রস্ত হয, তা হলে মনোবিশ্বে মানুষের যে প্রকাশ তা অসম্পূর্ণ হয। বাংলাভাষী এক সমযে গেযো রকমের ছিল। তার সহযোগে তত্ত্বকথা ও গভীর ভাব প্রকাশ করবার অনেক বাধা ছিল । তাই বাঙালিকে সেদিন সকলে গ্রাম্য বলে জেনেছিল। তাই যারা সংস্কৃতভাষার চর্চা করেছিলেন এবং সংস্কৃতশাস্ত্রের মধ্য দিযে বিশ্বসত্যের সঙ্গে পরিচিত হযেছিলেন তারা বঙ্গভাষায একান্ত আবদ্ধ চিত্তের সম্মান করতে পারেন নি । বাংলার পাচালি-সাহিত্য ও পযারের কথা তাদের কাছে নগণ্য ছিল। অনাদরের ফল কী হয। অনাদৃত মানুষ নিজেকে অনাদরণীষ বলে বিশ্বাস করে ; মনে করে, স্বভাবতই সে জ্যোতিহীন । কিন্তু, এ কথাটা তো গভীর ভাবে সত্য নয ; আত্মপ্রকাশের অভাবেই তার আত্মবিস্তৃতি। যখন সে আপনাকে প্রকাশ করবার উপযুক্ত উপলক্ষ্য পায তখন সে আর আপনার কাছে আপনি প্রচ্ছন্ন থাকে না । উপযুক্ত আধারটি না পেলে প্রদীপ আপনার শিখা সম্বন্ধে আপনি অন্ধ থাকে। অতএব, যেহেতু মাহুষের আত্মপ্রকাশের প্রধান বাহন হচ্ছে