পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ጏ ቁ © সাহিত্যের পথে তার ভাষা তাই তার সকলের চেযে বডে কাজ— ভাসার দৈন্ত দূর করে আপনার যথার্থ পরিচয় লাভ করা এবং সেই পূর্ণ পরিচযটি বিশ্বের সমক্ষে উদ্‌ঘাটিত করা। আমার মনে পড়ে, আমাদের বাল্যকালে বাংলাদেশে একদিন ভাবের তাপস বঙ্কিমচন্দ্র কোন এক উদ্‌বোধনমন্ত্র উচ্চারণ করেছিলেন, তাতে হঠাৎ যেন বহু দিনের কৃষ্ণপক্ষ তার কালো পৃষ্ঠা উলটিয়ে দিযে শুক্লপক্ষরূপে আবির্ভূত হল। তখন যে সম্পদ আমাদের কাছে উদঘাটিত হযেছিল শুধু তার জন্তেই যে আমাদের আনন্দ ছিল তা নয়। কিন্তু, হঠাৎ সম্মুখে দেখা গেল, একটি অপরিসীম আশার ক্ষেত্র বিস্তারিত। কী যে হবে, কত যে পাব, ভাবীকাল যে কোন অভাবনীযকে বহন করে আনবে, সেই ঔৎসুক্যে মন ভরে উঠল। এই-যে মনে অনুভূতি জাগে যে সৌভাগ্যের বুঝি কোথাও শেষ নেই, এই-যে হৃৎস্পন্দনের মধ্যে আগন্তুক অসীমের পদশব্দ শুনতে পাওযা যায, এতেই স্থষ্টিকার্য অগ্রসর হয । সকল বিভাগেই এই ব্যাপারটি ঘটে থাকে। রাষ্ট্ৰীয ক্ষেত্রে একদিন বাঙালির এবং ভারতবাসীর আশা সংকীর্ণ সীমায বদ্ধ ছিল । তাই কংগ্রেস মনে করেছিল যে, যতটুকু ইংরাজ হাতে তুলে দেবে সেই প্রসাদটুকু লাভ করেই বুড়ে হওযা যাবে। কিন্তু, এই সীমাবদ্ধ আশা যেদিন ঘুচে গেল সেদিন মনে হল যে, আমার আপনার মধ্যে যে শক্তি আছে তার দ্বারাই দেশের সকল সম্পদকে আবাহন করে আনতে পারব। এইরূপ অসীম আশার দ্বারাই অসাধ্যসাধন হয। আশাকে নিগড়বদ্ধ করলে কোনো বড়ো কাজ হয না । বাঙালি কোথায এই অসীমতার পরিচয পেয়েছে। সেখানেই যেখানে নিজের জগৎকে নিজে স্বষ্টি করে তার মধ্যে বিরাজ করতে পেরেছে। মানুষ নিজের জগতে বিহার করতে না পারলে, পরান্নভোজী পরাবসথশাস্ত্রী হলে, তার আর দুঃখের অস্ত থাকে না । তাই তো কথা আছে : স্বধর্মে নিধনং শ্ৰেয়ঃ