পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সভাপতির অভিভাষণ » ቁ » পরধর্মে ভযাবহ: । আমার যা ধর্ম তাই আমার স্মৃষ্টির মূলশক্তি, আমিই স্বযং আমার আশ্রযস্থল তৈরি করে তার মধ্যে বিরাজ করব। প্রত্যেক জাতির স্বকীয স্মৃষ্টি তার স্বকীয প্রকৃতি -অনুসারে বিচিত্র আকার ধারণ করে থাকে। সে রাষ্ট্র সমাজ সাহিত্য শিল্পকলা প্রভৃতি নানা ক্ষেত্রে আপন জগৎকে বিশেষভাবে রচনা করে তাতে সঞ্চরণ করার অধিকার লাভ করে থাকে । বাঙালিজাতি তার আনন্দময় সত্তাকে প্রকাশ করবার একমাত্র ক্ষেত্র লাভ করেছে বাংলাভাষার মধ্যে । সেই ভাষাতে একদা এমন এক শক্তির সঞ্চার হযেছিল যাতে করে সে নানা রচনারূপের মধ্যে যেন অসমবৃত হযে উঠেছিল ; বীজ যেমন আপন প্রাণশক্তির উর্দুবেলতাষ নিজের আবরণ বিদীর্ণ করে অঙ্কুরকে উদ্ভিন্ন করে তেমনি আর-কি। যদি তার এই শক্তি নিতান্ত ক্ষীণ হত তবে তার সাহিত্য ভালো করে আত্মসমর্থন করতে পারত না । বিদেশ থেকে বন্যার স্রোতের মতো আগত ভাবধারা তাকে ধুযে মুছে দিত। এমন বিলুপ্তির পরিচয আমরা অন্যত্র পেযেছি। ভারতবর্ষের অন্ত অনেক জাযগায ইংরাজি চর্চা খুব প্রবল। সেখানে ইংরাজিভাষায স্বজাতীযের মধ্যে, পরমাস্ত্রীষের মধ্যে পত্রব্যবহার হযে থাকে। এমন দৈন্যদশা যে, পিতাপুত্রের পরস্পরের মধ্যে শুধু ভাবের ন্য সামান্য সংবাদের আদানপ্রদানও বিদেশী ভাষার সহাযতাষ ঘটে । রাষ্ট্ৰীয অধিকার লাভের আগ্রহ প্রকাশ করে যে মুখে বলে বন্দেমাতরম্ সেই মুখেই মাতৃদত্ত পরম অধিকার যে মাতৃভাষা তার অসম্মান করতে মনে কোনো আক্ষেপ বোধ করে না । বাংলাদেশেও যে এই আত্মাবমাননার লক্ষণ একেবারে নেই ত৷ বলতে পারি নে। তবে কিনা এ সম্বন্ধে বাঙালির মনে একটা লজ্জার বোধ জন্মেছে । আজকের দিনে বাঙালির ডাকঘরের রাস্তায় বাংলা চিঠিরই ভিড় সব চেয়ে বেশি।