পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সভাপতির অভিভাষণ ኃ ግ© সাহিত্যসম্পদশালী হযে উঠল তখন তার প্রভাব বিস্তৃত হযে স্কটুলণ্ডকে আকৃষ্ট করেছিল। সে ভাষা আপন ঐশ্বর্যের শক্তিতে স্কটুল্যাণ্ডের বরমাল্য অধিকার করে নিযেছিল। এমনি করেই দুই বিরোধী জাতি ভাষার ক্ষেত্রে একত্র মিলিত হল, জ্ঞানের ভাবের একই পথে সহযাত্রী হযে আত্নীয়তার বন্ধনকে অস্তরে স্বীকার করায তাদের বাহিরের ভেদ দূর হল। দূরপ্রদেশবাসী বাঙালি যে বাংলাভাষাকে অঁাকড়ে থাকতে চাচ্ছে, প্রবাসের ভাষাকে যে স্বীকার করে নিতে ইচ্ছে করছে না, তারও কারণ এই যে, সাহিত্যসম্পদশালী বাংলাভাষার শক্তি তার মনকে জিতে নিযেছে। এইজন্তেই, সে যত দূরেই থাকৃ, আপন ভাষার গৌরববোধের স্বত্রে বাংলার বাঙালির সঙ্গে তার যোগ সুগভীর হযে রযেছে। এই যোগকে ছেদন করতে তার ব্যথা বোধ হয, একে উপলব্ধি করতে তার আনন্দ । বাল্যকালে এমন আলোচনাও আমি শুনেছি যে, বাঙালি যে বঙ্গভাষীব চর্চায মন দিযেছে এতে করে ভারতীয ঐক্যের অন্তরায স্মৃষ্টি হচ্ছে। কারণ, ভাষার শক্তি বাড়তে থাকলে তার দৃঢ় বন্ধনকে শিথিল করা কঠিন হয। তখনকার দিনে বঙ্গসাহিত্য যদি উৎকর্ষ লাভ না করত তবে আজকে হযতো তার প্রতি মমতা ছেড়ে দিযে আমরা নির্বিকার চিত্তে কোনো একটি সাধারণ ভাষা গ্রহণ করে বসতাম। কিন্তু, ভাষা জিনিসের জীবনধর্ম আছে। তাকে ছাচে ঢেলে, কলে ফেলে, ফর্মাশে গড়া যায না । তার নিযমকে স্বীকার করে নিযে তবেই তার কাছ থেকে সম্পূর্ণ ফল পাওযা যায। তার বিরুদ্ধগামী হলে সে বন্ধ্যা হয। একদিন মহা-ফ্রেডরিকের সময ফ্রান্সের ভাষার প্রতি জর্মানির লোলুপত দেখা গিযেছিল, কিন্তু সে টি’কল না। কেননা, ফ্রান্সের প্রকৃতি থেকে ফ্রান্সের ভাষাকে বিচ্ছিন্ন করে নিযে তাতে প্রাণের কাজ চালানো যায না। সিংহের চামড নিযে আসন বা গৃহসজ্জা করতে পারি,