পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


»ዋ8 সাহিত্যের পথে কিন্তু সিংহের সঙ্গে চামড়া বদল করতে পারি না । আমাদের স্বীকার করতেই হবে যে, আমরা যেমন মাতৃক্রোড়ে জন্মেছি তেমনি মাতৃভাষার ক্রোড়ে আমাদের জন্ম, এই উভয জননীই আমাদের পক্ষে সজীব ও অপরিহার্য । মাতৃভাষায আমাদের আপন ব্যবহারের অতীত আর-একটি বড়ো সার্থকতা আছে। আমার ভাষা যখন আমার নিজের মনোভাবের প্রকৃষ্ট বাহন হয তখনই অহা ভাষার মর্মগত ভাবের সঙ্গে আমার সহজ ও সত্য সম্বন্ধ স্থাপিত হতে পারে। আমি যদিচ বাল্যকালে ইস্কুল পালিযেছি, কিন্তু বুড়ো ব্যসে সেই ইস্কুল আবার আমাকে ফিরিযে এনেছে। আমি তাই ছেলে পড়িযে কিছু অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। আমার বিদ্যালযে নানা শ্রেণীর ছাত্র এসেছে, তার মধ্যে ইংরেজি-শেখা বাঙালি ছেলেও কখনও কখনও আমরা পেযেছি— আমি দেখেছি তাদেরই ইংরেজি শেখানে সব চেযে কঠিন ব্যাপার। যে বাঙালির ছেলে বাংলা জানে না তাকে ইংরেজি শেখাই, কী অবলম্বন করে। ভিক্ষুকের সঙ্গে দাতার যে সম্বন্ধ তা পরস্পরের আন্তরিক মিলনের সম্বন্ধ নয। ভাষাশিক্ষায সেইটে যদি ঘটে, অর্থাৎ এক দিকে শূন্য ঝুলি আর-এক দিকে দানের অন্ন, তা হলে তাতে করে গ্রহীতাকে একেবারে গোড়া থেকে শুরু করতে হয। কিন্তু, এই ভিক্ষাবৃত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত উপজীবিকাতে কখনও কল্যাণ হয না । নিজের ভাষা থেকে দাম দিযে দিযে তার প্রতিদানে অন্য ভাষাকে আযক্ত করাই সহজ । সুতরাং প্রত্যেক দেশ যখন তার স্বকীয ভাষাতে পূর্ণতা লাভ করবে তখনই অন্ত দেশের ভাষার সঙ্গে তার সত্যসম্বন্ধ প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে । ভাষার এই সহযোগিতায় প্রত্যেক জাতির সাহিত্য উজ্জ্বলতর হযে প্রকাশমান হবার সুযোগ পায । যে নদী আমার গ্রামের কাছ দিযে বহমান তাতে যেমন গ্রামের এপারে ওপারে খেযা-পারাপার চলে,