পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


» ፃg সাহিত্যের পথে অথবা শৃঙ্খলার মিলনমাত্র। রাশিযা তার অধিকৃত ছোটো ছোটো দেশের ভাষাকে মেরে রাশীষ ভাষার অধিকারভুক্ত করবার চেষ্টা করেছিল, বেলজিযান ফ্লেমিশদের ভাষা ভোলাতে পারলে বাচে। কিন্তু, ভাষার অধিকার যে ভৌগোলিক অধিকারের চেয়ে বড়ো, তাই এখালে জবৰ্দ্দস্তি খাটে না । বেলজিয়াম ফ্লেমিশদের অনৈক্য সইতে পারে নি, তাই রাষ্ট্রীয় ঐক্যবন্ধনে তাদের বাধতে চেয়েছে। কিন্তু সে ঐক্য অগভীর বলে তা স্থায়ী ভিত্তির উপর দাড়াতে পারে না । সাম্রাজ্যবন্ধনের দোহাই দিযে যে ঐক্যসাধনের চেষ্টা তা বিষম বিড়ম্বনা। আজ যুরোপের বড়ো বড়ো দাসব্যবসায়ী নেশনরা আপন অধীন গণবর্গকে এক জোযালে জুড়ে দিযে বিষম কষাঘাত করে তার ইস্পীরিযালিজমের রথ চালিযে দিযেছে। রথের বাহন যে ঘোড়াকযটি, তাদের পরস্পরের মধ্যে কোনো আত্মীযতা নেই। কিন্তু, সারথির তাতে আসে যায না । তার মন রযেছে এগিযে চলার দিকে, তাই সে রথের ঘোড়াকটাকে কষে বেঁধে টেনে-fহঁচডে প্রাণপণে চাবকাচ্ছে । নইলে তার গতিবেগ যে থেমে যায। এমন বাহ সাম্যকে যারা চায তারা ভাষাবৈচিত্র্যের উপর স্টম-রোলার চালিযে দিযে আপন রাজরথের পথ সমভূম করতে চায। কিন্তু, পাচটি বিভিন্ন ফুলকে কুটে দল পাকালেই তাকে শতদল বলা যেতে পারে না। অরণ্যের বিভিন্ন পত্রপুষ্পের মধ্যে যে ঐক্য আছে তা হল বসন্তের ঐক্য। কারণ, বসন্তসমাগমে ফাঙ্কনের সমীরণে তাদের সকলেরই মঞ্জরী মুকুলিত হযে ওঠে। তাদের বৈচিত্র্যের অন্তরালে যে বসন্তের একই বাণীর চলাচলের পথ সেখানেই তারা এক ও মিলিত । রাষ্ট্ৰীয ক্ষেত্রে জবর্দস্ত লোকেরা বলে থাকে যে, মানুষকে বড়োরকমের বাধনে বেঁধেছেদে মেরে কেটেকুটে প্রযোজন সাধন করতে হবে— এমন দড়াদড়ি দিযে বাধলেই নাকি ঐক্য সাধিত হতে পারে। অদ্বৈতের মধ্যে যে পরমমুক্ত শিব