পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সভাপতির অভিভাষণ » ፃ ማ রয়েছেন তাকে তার চাষ না । তারা বেঁধেছেদে দ্বৈতকে বস্তাবন্দী করে যে অদ্বৈতের ভাণ তাকেই মেনে থাকে। কিন্তু, যারা যথার্থ অদ্বৈতকে অস্তরে লাভ করেছেন তারা তো তাকে বাইরে খোজেন না । বাইরের যে এক তা হচ্ছে প্রলয়, তাই একাকারত্ব ; আর অস্তরের যে এক তা হল স্মৃষ্টি, তাই ঐক্য। একটা হল পঞ্চতৃ, আর-একটা হল পঞ্চায়েৎ । আজকার এই সাহিত্যসম্মিলনে বাংলাদেশের প্রতিবেশী অনেক বন্ধুও সমাগত হয়েছেন। তারা যদি এই সম্মিলনে সমাগত হয়ে নিমন্ত্রণের গৌরবলাভে মনের মধ্যে কোনো বাধাবোধ না করে থাকেন তবে তাতে অনেক কাজ হয়েছে । আমরা যেন বাঙালির স্বাজাত্যঅভিমানের অতিমাত্রায় মিলনযজ্ঞে বিঘ্ন না বাধাই । দক্ষ তো আপন আভিজাত্যের অভিমানেই শিবকে রাগিয়ে দিয়েছিলেন। যে দেশে হিন্দি ভাষার প্রচলন সে দেশে প্রবাসী বাঙালি বাংলাভাষার ক্ষেত্র তৈরি করেছে, এতে বাঙালিদের এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। এই উত্তরভারতে কাশীতে র্তারা কী পেলেন, দেখলেন, আত্নীয়দের সহযোগিতায় কী লাভ করলেন, তা আমাদের জানাতে হবে। আমরা দুরে যারা বাস করি তারা এখানকার এ-সবের সঙ্গে পরিচিত নই। উত্তরভারতের লোককে আমরা মানচিত্র বা গেজেটিয়ারের সহযোগে দেখেছি। বাঙালি যখন আপন ভাষার মধ্য দিয়ে তাদের সঙ্গে পরিচয় বিস্তার করে সৌহার্দের পথ মুক্ত করবেন তাতে কল্যাণ হবে । ভালোবাসার সাধনার একটা প্রধান সোপান হচ্ছে জ্ঞানের সাধন । পরস্পরের পরিচয়ের অভাবই মানুষের প্রভেদকে বড়ো করে তোলে। যখন অস্তরের পরিচয় না হয় তখন বাইরের অনৈক্যই চোখে পড়ে, আর তাতে পদে পদে অবজ্ঞার সঞ্চার হয়ে থাকে। আজ বাংলাভাষাকে অবলম্বন করে উত্তরভারতের সঙ্গে সেই আস্তরিক পরিচয়ের > २.