পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ኃ ፃb” সাহিত্যের পথে প্রবাহ বাংলার অভিমুখে ধাবিত হোক। এখানকার সাহিত্যিকেg আধুনিক ও প্রাচীন উত্তরভারতীয সাহিত্যের যে শ্রেষ্ঠ সম্পদ, যা সকলের শ্রদ্ধা উৎপাদন করবার যোগ্য, তা সংগ্রহ করে দূরে বাংলাদেশে পাঠাবেন— এমনিভাবে ভাষার মধ্য দিযে বাংলার সঙ্গে উত্তরভারতের পরিচয় ঘনিষ্ঠতর হবে। আমি হিন্দি জানি না, কিন্তু আমাদের আশ্রমের একটি বন্ধুর কাছ থেকে প্রথমে আমি প্রাচীন হিন্দি সাহিত্যের আশ্চর্য রত্নসমূহের কিছু কিছু পরিচয লাভ করেছি। প্রাচীন হিন্দি কবিদের এমন-সকল গান তার কাছে শুনেছি যা শুনে মনে হয সেগুলি যেন আধুনিক যুগের। তার মানে হচ্ছে, যে কাব্য সত্য তা চিরকালই আধুনিক। আমি বুঝলুম, যে হিন্দিভাষার ক্ষেত্রে ভাবের এমন সোনার ফসল ফলেছে সে ভাষা যদি কিছুদিন অকৃষ্ট হযে পড়ে থাকে তবু তার স্বাভাবিক উর্বরতা মরতে পারে না ; সেখানে আবাব চাষের মুদিন আসবে এবং পৌষমাসে নবান্নউৎসব ঘটবে। এমনি করে এক সমযে আমার বন্ধুব সাহায্যে এ দেশেব ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে আমার শ্রদ্ধার যোগ স্থাপিত হযেছিল। উত্তবপশ্চিমের সঙ্গে সেই শ্রদ্ধার সম্বন্ধটি যেন আমাদের সাধনার বিষয হয । মা বিদ্বিষাবহৈ । আজ বসন্তসমাগমে অরণ্যের পাতাষ পাতায পুলকের সঞ্চার হযেছে । গাছের যা শুকনো পাতা ছিল তা ঝরে গেল । এমন দিনে যারা হিসাবের নীরস পাতা উল্টাতে ব্যস্ত আছে তারা এই দেশব্যাপী বসন্ত-উৎসবের ছন্দে যোগ দিতে পারল না। তারা পিছনে পডে রইল । দেশে আজ যে পোলিটিকাল উদ্দীপনার সঞ্চার হযেছে— তার যতই মূল্য থাকৃ “এহ বাহ’ । এর সমস্ত লাভ-লোকসানের হিসাবের চেযে অনেক বড়ো কথা রযে গেছে সেই সুগভীর আত্মিক-প্রেরণার মধ্যে যার প্রভাবে এই বঙ্গভাষা ও সাহিত্যের এমন স্বচ্ছন্দবিকাশ হযেছে। স্বাস্থ্যের যে