পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


لا بالا সভাপতির শেষ বক্তব্য আমাদের দৈহিক প্রকৃতিতে আমরা দেখতে পাই যে, তার কতকগুলি বিশেষ মর্মস্থান আছে — যেমন, প্রাণের যে প্রবাহ রক্তচলাচলের সহযোগে অঙ্গের সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয তার মর্মস্থান হচ্ছে হৃৎপিণ্ড ; আর, ইন্দ্র্যিবোধের যে ধারা স্নায়ুতন্তু অবলম্বন ক’রে দেহে বিস্তৃত হযেছে তার কেন্দ্র হচ্ছে মস্তিষ্ক । তেমনি প্রত্যেক দেশের চিত্তে যে জ্ঞান ও ভাবের ধারা প্রবহমান, তার এক-একটি মর্মস্থান আপনিই স্বঃ হযে থাকে। পশ্চিম-মহাদেশে আমরা দেখতে পাই যে, ফ্রান্সের চিত্তের কেন্দ্রভূমি প্যারিস, ইতালীর রোম, ও প্রাচীন গ্রীসের এথেন্স । হিন্দু-ভারতবর্ষের ইতিহাসেও তেমনি দূরে দূরে যত বিদ্যার উৎস উৎসারিত হযেছে তার ধারা সর্বদাই কোনো না কোনো উপলক্ষ্যে কাশীতে এসে মিলিত হযেছে। ইতিপূর্বে রাধাকুমুদবাবু তার প্রবন্ধে দেখিযেছেন যে, বৈদিক যুগে কাশী ব্রহ্মবিদ্যার আলোচনার কেন্দ্র ছিল, তার পরে বৌদ্ধযুগে যখন বুদ্ধদেব ধর্মপ্রচারে প্রবৃত্ত হলেন তখন তিনি কাশীতেই ধৰ্মচক্র প্রবর্তন করেন। মধ্যযুগেও যত কবি, ভক্ত, সাধু, কোনো না কোনো স্বত্রে এই নগরীর সঙ্গে তাদের জীবন ও কর্মকে মিলিত করেছেন । আজকার দিনে আমাদের বঙ্গসাহিত্যের যে উদ্যম বঙ্গভাষায প্রকাশ পেযেছে ও বাংলায নবজীবনের সঞ্চার করেছে, এটি কেবল সংকীর্ণ ভাবে বাংলার জিনিস নয, ভারতবর্ষের ইতিহাসে এ একটি বড়ো উদ্যমের প্রকাশ । সুতরাং স্বতই যদি এর একটা বেগ কাশীতে এসে পৌছয, তবে তাতে করে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা রক্ষা হবে। নবজাত শিশু জন্মলাভ করে প্রথমে আপন গৃহে, কিন্তু তার পর ক্রমে ক্রমে জাতসংস্কারের দ্বারা সে সমাজে স্থান পায । তেমনি