পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


〉bペ সাহিত্যের পথে ভারতবর্ষের সকল প্রচেষ্টাগুলির যেখানে জন্ম সেখানেই তার পূর্ণ পরিণতি লাভ করে না ; তাদের অন্ত সংস্কারের প্রযোজন, যার দ্বারা সেগুলি সর্বভারতের জিনিস ব’লে নিজের ও অন্তের কাছে প্রমাণিত হতে পারে। ভারতবর্ষের মধ্যে বাংলা আপন ভূগোলগত সীমায স্বীয বিশেষত্বকে আপন সাহিত্যে চিত্রকলায প্রকাশ করুক, তাকে উজ্জল করতে থাকৃ, কিন্তু তার প্রাণের প্রাচুর্য বাংলার বাইরেও নানা প্রতিষ্ঠান অবলম্বন ক’রে আপন শাখা বিস্তার যদি করে তবে কাশী তার সেই আত্মপ্রসার-উদ্যমের একটি প্রধান কেন্দ্রস্থান হতে পারে। কারণ, কাশী বস্তুত ভারতবর্ষের কোনো বিশেষ প্রদেশভুক্ত নয, কাশী ভারতবর্ষের সকল প্রদেশরই । এই প্রবাসে বঙ্গসাহিত্যের যে বিশেষ প্রতিষ্ঠানের স্বত্রপাত হল তার প্রধান আকাজক্ষাটি কী। তা হচ্ছে এই যে, বঙ্গসাহিত্যের ফল যেন ভারতবর্ষের অন্তান্ত সকল প্রদেশের হস্তে সহজে নিবেদন করে দেওয যেতে পারে। ভারতবর্ষে যে-সকল তীর্থস্থান আছে তার সর্বপ্রধান কাজই হচ্ছে এই যে, সেখানে যাতে সকল প্রদেশের লোক আপন প্রাদেশিক সত্তার চেযে বড়ো সত্তাকে উপলব্ধি করে। সমস্ত হিন্দুভারতবর্ষের যে-একটি বিরাট ঐক্য আছে সেটি প্রত্যক্ষ অনুভব করবার স্থান হচ্ছে এই-সব তীর্থ। পুরী প্রভৃতি অন্যান্য তীর্থের চেযে কাশীর বিশেষত্ব এই যে, এখানে যে কেবল ভক্তিধারার সংগমস্থান তা নয, এখানে ভারতীয সমস্ত বিদ্যার মিলন হযেছে। বাংলা প্রদেশ আপনার শ্রেষ্ঠ সম্পদকে যদি কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের যোগে কাশীর সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন তবে সে জিনিসটিকে ভারতের ভারতী প্রসন্নমনে গ্রহণ করবেন । বঙ্গসাহিত্যের মধ্যে শুধু বাংলারই শক্তি বদ্ধ হয়ে রযেছে এ কথা বললে সম্পূর্ণ সত্য বলা হয় না ; কেননা, সমগ্র ভারতবর্ষের নাড়ীর মধ্য দিযেই