পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


めbr8 সাহিত্যের পথে গেছে, কেউ কেউ বা ব্যবসাযে প্রবৃত্ত, কিন্তু জাপানকে সম্পূর্ণ চোখ মেলে দেখবার আগ্রহ তাদের মনের মধ্যে গভীর ভাবে নেই। যদি থাকত অ হলে বোতাম-শিক্ষার চেযে বড়ো শিক্ষা তাদের হত। তারা জাপানকে শ্রদ্ধা করতে না পারার দ্বারা নিজেদের অশ্রদ্ধেয় করেছে। যে-সব বাঙালি উত্তরপশ্চিম ভারতে দীর্ঘকাল বা অল্পকাল বাস করছে তারা যদি এই মোহান্ধতার বেষ্টন থেকে নিজেদের মুক্ত না করে, তা হলে এখানকার মানবসংস্রব থেকে তাদের সাহিত্য কিছুই সংগ্রহ কবতে পারবে না। যে কযেদি গারদের বাইরে রাস্তায এসে কাজ করে সেও যেমন বন্দী, তেমনি যে বাঙালি আপন ঘর থেকে দূরে সঞ্চরণ করতে আসে তারও মনের পাযে অভিমান ও অশ্রদ্ধার বেডি পরানো । এই উপেক্ষার ভাবকে মন থেকে না তাড়াতে পারলে কাশীর মতো স্থানে সাহিত্য সম্বন্ধে বাঙালির প্রতিষ্ঠান নিরর্থক হবে। বাঙালির চিন্তাপরাষণ বীক্ষণশীল মন যে উত্তরপশ্চিম ভারতের সংস্পর্শে এসেছে তারই প্রমাণ বঙ্গসাহিত্যে ফলবান হযে দেখা দেবে, তবেই এখানকার বঙ্গসাহিত্যপরিষৎ নিতান্ত একটা বাহুল্য ব্যাপার বলে গণ্য হবে না । এখানকার ভাষা সাহিত্য, এখানকার স্থানীয অভিজ্ঞতা থেকে যা-কিছু তথ্য ও তত্ত্ব সংগ্রহ করা সম্ভব, তা সমস্তই বাংলাসাহিত্যের পুষ্টিসাধনে নিযুক্ত হবে— এখানকার বাঙালি-সাহিত্যিক-সঙ্ঘ থেকে এই আমরা বিশেষভাবে আশা করি । এ দেশে যে-সব বহুমূল্য পুথি আছে তা ক্রমে ক্রমে চলে যাচ্ছে। আমি জানি, একজন জাপানি পুরোহিত নেপাল থেকে তিন-চার সিন্ধুক বোঝাই করে মহাযান-বৌদ্ধশাস্ত্র জাপানে চালান করে দিযেছেন। এজন্য সংগ্রহকারকে দোষ দেব কী করে । যারা চেযেছিল তারা পেযেছে, যারা চাষ নি তার হারালো, এই তো সংগত। কিন্তু, এই বেলা সতর্ক হতে হবে। প্রাচীন পুথি সংগ্রহ এবং রক্ষা করবার একটি