পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যের পথে واbلا তা হলে ধন্ত হবেন । সকল দেশেই বিদ্যার একটা ধারাবাহিকতা আছে। মূল উৎস থেকে নদীর ধারা বন্ধ হযে গেলে যেমন তা বদ্ধ জলের কুণ্ডে পরিণত হযে নষ্ট হযে যায, তেমনি জ্ঞানের তপস্তা বা কলার সাধনায অতীতের সঙ্গে বর্তমানের যোগ যদি অবরুদ্ধ হযে যায তা হলে সে-সমস্ত ক্ষীণ হযে বিলুপ্ত হতে থাকে। ভারতীয আর্ট সম্বন্ধে আমরা তার যথেষ্ট প্রমাণ পাই। অজন্তার চিত্রকলায যে ধারা ছিল সে ধারা অনেক দিন বয নি, তাই ভারতের চিত্রকলা পঙ্ককুণ্ডে অবরুদ্ধ হযে ক্রমে তলার পাকে এসে ঠেকেছে। এই ধাবাকে যথাসাধ্য উন্মুক্ত করা চাই তো । কিন্তু প্রাচীন ভাবতের ভালো ভালো সব ছবিই যদি বিদেশে চালান যায, তা হলে আমাদের দেশে চিত্রকলার বিদ্যাকে সজীব ও সচল রাখা কঠিন হবে। আমাদের আধুনিক চিত্রে প্রাচীন চিত্রকলার অনুকরণ করতে হবে, এমন কথা বলি নে । কিন্তু, অতীতের সাধনার মধ্যে যে-একটি প্রাণের বেগ আছে সেই বেগটি আমাদের চিত্তের প্রাণশক্তিকে জাগিযে তোলে। অতীতের স্বষ্টিপ্রবাহকে বর্তমান কালের স্বষ্টির উদ্যমের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করলে সেই উদ্যমকে সহাযহীন করা হয। শুধু নিজেদেব অতীত কেন, অন্ত দেশের বিদ্যা থেকে আমরা যা পাই তার প্রধান দান হচ্ছে এই ৷ উদ্যম। এইজন্তে যুরোপে, যেখানে দেশ-বিদেশের সমস্ত মানৰসংসার থেকে সকলরকম বিদ্যার সমবায ঘটছে, সেখানে সাধনার উদ্যম এমন আশ্চর্যরূপে বেড়ে উঠছে। এই কথাটি মনে করে আমাদের দেশের অতীতের লুপ্তপ্রায সমস্ত কীর্তির যথাসম্ভব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা যেন করি— তাদের পুনরাবৃত্তি করবার জন্তে নয, নিজেদের চিত্তকে সাধনার বৃহৎ ক্ষেত্রে জাগরূক রাখবার জন্তে । ১৩৩০ জ্যৈষ্ঠ