পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৯২ সাহিত্যের পথে ভাইযে পরস্পরকে বঞ্চিত করিতে পারে, কিন্তু ভাষাসাহিত্য লইযা কি আত্মঘাতকর প্রস্তাব কখনও চলে । কেহ কেহ বলেন, মুসলমানের ভাষা বাংলা বটে, কিন্তু তাহ মুসলমানি বাংলা, কেতাবি বাংলা নয। স্কটুলণ্ডের চলতি ভাষাও তো কেতাবি ইংরেজি নয, স্কটুলণ্ড, কেন, ইংলণ্ডের ভিন্ন-ভিন্ন প্রদেশের প্রাকৃত ভাষা সংস্কৃত ইংরেজি নয। কিন্তু, তা লইযা তো শিক্ষাব্যবহারে কোনোদিন দলাদলির কথা শুনি নাই। সকল দেশেই সাহিত্যিক-ভাষার বিশিষ্টতা থাকেই । সেই বিশিষ্টতার নিযমবন্ধন যদি ভাঙিযা দেওয হয, তবে হাজার হাজার গ্রাম্যতার উচ্ছৃঙ্খলতায সাহিত্য খানখান্ হইয পড়ে । স্পষ্ট দেখা যাইতেছে, বাংলাদেশেও হিন্দু-মুসলমানে বিরোধ আছে। কিন্তু, দুই তরফের কেহই এ কথা বলিতে পারেন না যে এটা ভালো । মিলনের অন্য প্রশস্ত ক্ষেত্র আজও প্রস্তুত হয নাই। পলিটিকস্কে কেহ কেহ এইরূপ ক্ষেত্র বলিযা মনে করেন, সেটা ভুল। আগে মিলনটা সত্য হওয চাই, তার পরে পলিটিকৃস্ সত্য হইতে পারে। খানকতক বেজোড় কাঠ লইযা ঘোড়া দিযা টানাইলেই যে কাঠ আপনি গাডিরাপে ঐক্য লাভ করে, এ কথা ঠিক নহে। খুব একটা খড় খড়ে ঝড় ঝডে গাড়ি হইলেও সেটা গাড়ি হওয চাই। পলিটিকৃসও সেইরকমেব একটা যানবাহন। যেখানে সেটার জোযালে ছাপ্পরে চাকায কোনোরকমের একটা সংগতি আছে সেখানে সেটা আমাদের ঘরের ঠিকানায পৌছাইয দেয, নইলে সওযারকে বহন না করিযা সওযারেব পক্ষে সে একটা বোঝা হইযা ওঠে । বাংলাদেশে সৌভাগ্যক্রমে আমাদের একটা মিলনের ক্ষেত্র আছে। সে আমাদের ভাষা ও সাহিত্য । এইখানে আমাদের আদানে প্রদানে জাতিভেদের কোনো ভাবনা নাই। সাহিত্যে যদি সাম্প্রদাষিকতা ও