পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8נה כ কবির অভিভাষণ এই পরিষদে কবির অভ্যর্থনা পূর্বেই হযে গেছে। সেই কবি বৈদেম্বিক, সে বাণীমূর্তিতে ভাবরূপে সম্পূর্ণ। দেহের মধ্যে তার প্রকাশ সংকীর্ণ এবং নানা অপ্রাসঙ্গিক উপাদানের সঙ্গে মিশ্রিত। আমার বন্ধু এইমাত্র যমের সঙ্গে কবির তুলনা করে বলেছেন, যমরাজ আর কবিরাজ দুটি বিপরীত পদার্থ। বোধ হয তিনি বলতে চান, যমরাজ নাশ করে আর কবিরাজ স্বষ্টি করে। কিন্তু, এরা উভযেই যে এক দলের লোক, একই ব্যবসাযে নিযুক্ত, সে কথা অমন করে চাপ দিলে চলবে কেন । নাটকস্থষ্টির সর্বপ্রধান অংশ তার পঞ্চম অঙ্কে । নাটকের মধ্যে যা-কিছু চঞ্চল তা ঝরে পডে গিযে তার যেটুকু স্থায়ী সেইটুকুই পঞ্চম অঙ্কের চরম তিরস্করণীর ভিতর দিযে হৃদযের মধ্যে এসে প্রবেশ করে । বিশ্বনাট্যস্থষ্টিতেও পঞ্চম অঙ্কেব প্রাধান্ত ঋষিরা স্পষ্ট দেখতে পেযেছিলেন —সেইজন্য স্মৃষ্টিলীলায অগ্নি, স্বর্য, বৃষ্টিধারা, বায়ুর নাট্যনৈপুণ্য স্বীকার করে সব শেষে বলেছেন ; মৃত্যুধাবতি পঞ্চমঃ। ইনি না থাকলে যা-কিছু ক্ষণকালের তাই জমে উঠে যেটি চিরকালের তাকে আচ্ছন্ন করে দেয । যেটা স্থল, যেটা স্থাবর, সেটাকে ঠেলে ফেলবার কাজে মৃত্যু নিযত ধাবमॉन |- ভযাদস্তাগ্নিস্তপতি ভযাত্তপতি স্বর্য: | ভযাদিন্দ্ৰশ্চ বাযুশ্চ মৃত্যুধাবতি পঞ্চমঃ ॥ এই যদি হয যমরাজের কাজ, তবে কবির কাজের সঙ্গে এর মিল আছে বই-কি। ক্ষণকালের তুচ্ছতা থেকে, জীর্ণতা থেকে, নিত্যকালের আনন্দরূপকে আবরণমুক্ত করে দেখাবার ভার কবির। সংসারে প্রথম, দ্বিতীয, তৃতীয, চতুর্থ অঙ্কে নানাপ্রকার কাজের লোক নানাপ্রকার প্রযোজনসাধনে প্রবেশ করেন ; কিন্তু কবি আসেন ‘পঞ্চমঃ’ আগু