পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কবির অভিভাষণ ף אל ל সৌভাগ্য এই যে, এখানে দ্বার খোলা পেযেছি, আহ্বান শুনতে পাচ্ছি ‘এসো’। এই পরিষদ আমাকে শ্রদ্ধার আসন দেবার জন্তে প্রস্তুত ; স্বদেশের আতিথ্য এইখানে অকৃপণ ; এই সভার সভ্যদের কাছে আমার পরিচ্য অন্তত ঔদাসীন্তের দ্বারা ক্ষুণ্ণ হবে না। দেশবিদেশে আমার সম্মানের বিবরণ আমার বন্ধু এইমাত্র বর্ণনা করেছেন। বাইরের দিক থেকে বিদেশের কাছে আমার পরিচয পরিমাণ-হিসাবে অতি অল্প । আমার লেখার সামান্ত এক অংশের তর্জমা তাদের কাছে পৌচেছে, সে তরজমারও অনেকখানি যথেষ্ট স্বচ্ছ নয। কিন্তু সাহিত্যে, কলারচনায, পরিমাণের হিসাবটা বডে হিসাব নয, সে ক্ষেত্রে অল্প হাতো বেশির চেযে বেশি হতেও পারে । সাহিত্যকে ঠিক ভাবে যে দেখে সে মেপে দেখে না, তলিযে দেখে ; লম্বা পাড়ি দিযে সাতার না কাটলেও তার চলে, সে ডুব দিযে পরিচয় পায— সেই পরিচয অন্তরতর। বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বা ঐতিহাসিক তথ্যের জন্তে পরিমাণেব দরকার, স্বাদের বিচারের জন্তে এক গ্রাসের মূল্য দুই গ্রাসের চেযে কম নয। বস্তুত এই ক্ষেত্রে ‘অধিক অনেক সমযে স্বল্পের শত্ৰু হযে দাড়ায । ‘অনেক’কে দেখতে গিযে যে চিত্তবিক্ষেপ ঘটে তাতে এককে দেখবার বাধা ঘটায়। রসসাহিত্যে এই ‘এক’কে দেখাই আসল দেখা । একজন যুরোপীয আর্টিস্টকে একদিন বলেছিলুম যে, ইচ্ছা করে ছবি আঁকার চর্চা করি, কিন্তু আমার দৃষ্টি ক্ষীণ বলে চেষ্টা করতে সাহস হয না । তিনি বললেন, “ও ভযটা কিছুই নয, ছবি আঁকতে গেলে চোখে একটু কম দেখাই দরকার , পাছে অতিরিক্ত দেখে ফেলি এই আশঙ্কায় চোখের পাতা ইচ্ছে করেই কিছু নামিযে দিতে হয। ছবির কাজ হচ্ছে সার্থক দেখা দেখানে ; যারা নিরর্থক অধিক দেখে তারা বস্তু দেখে বেশি, ছবি দেখে কম ।’ দেশের লোক কাছের লোক— তাদের সম্বন্ধে আমার ভয়ের কথাটা