পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কবির অভিভাষণ ২০১ আমার কাছ থেকে একটি বাংলা শ্লোক চেয়েছিল। আমি লিখে দিয়েছিলুম— নূতন সে পলে পলে অতীতে বিলীন, যুগে যুগে বর্তমান সেই তো নবীন। তৃষ্ণ বাড়াইযা তোলে নূতনের মুরা, নবীনের নিত্যমুধা তৃপ্তি করে পুরা। স্বষ্টিশক্তিতে যখন দৈন্ত ঘটে তখনই মানুষ তাল ঠুকে নূতনত্বের আস্ফালন করে। পুরাতনের পাত্রে নবীনতার অমৃতরস পরিবেশন করবার শক্তি তাদের নেই, তারা শক্তির অপুর্বতা চড়া গলায প্রমাণ করবার জন্তে স্থষ্টিছাড়া অভূতের সন্ধান করতে থাকে। সেদিন কোনো একজন বাঙালি হিন্দু কবির কাব্যে দেখলুম, তিনি রক্ত শব্দের জাযগায ব্যবহার করেছেন “খুন’ । পুরাতন ‘রক্ত’ শব্দে তার কাব্যে রাঙা রঙ যদি না ধরে তা হলে বুঝব, সেটাতে তারই অকৃতিত্ব। তিনি রঙ লাগাতে পারেন না বলেই তাক লাগাতে চান। নতুন আসে অকস্মাতের খোচা দিতে, নবীন আসে চিরদিনের আনন্দ দিতে । সাহিত্যে এইরকম নতুন হযে ওঠবার জন্তে যাদের প্রাণপণ চেষ্টা র্তারাই উচ্চৈঃস্বরে নিজেদের তরুণ বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু, আমি তকণ বলব তাদেরই যাদের কল্পনার আকাশ চিরপুরাতন রক্তরাগে অরুণবর্ণে সহজে নবীন, চরণ রাঙাবার জন্যে যাদের উষাকে নিযুমার্কেটে ‘খুন ফরমাশ করতে হয না। আমি সেই তরুণদের বন্ধু, তাদের ব্যস যতই প্রাচীন হোক। আর যে বৃদ্ধদের মর্চে-ধরা চিত্তবীণায পুরাতনের স্পর্শে নবীন রাগিণী বেজে ওঠে না তাদের সঙ্গে আমার মিল হবে না, তাদের বয়স নিতান্ত কাচা হলেও । এই পরিষদ সকল ব্যসের সেই তরুণদের পরিষদ হোক। পুরাতনের নবীনতা বুঝতে তাদের যেন কোনো বাধা না থাকে। s७७8 यांड्हुन