পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যরূপ & ο (ζ. দিযেছেন সেটা কাব্যসাহিত্যের মুখ্য বিচার্য নয। বিষযের গৌরব বিজ্ঞানে দর্শনে, কিন্তু রূপের গৌরব রসসাহিত্যে । মাইকেল তার নবস্বষ্টির রূপটিকে সাহিত্যে চিরপ্রতিষ্ঠা দেন নি বটে, কিন্তু তিনি সাহস দিযে গেলেন, নতুন লেখকদের উৎসাহ দিলেন। তিনি বললেন, প্রতিভা আপন স্থষ্ট নব নব রূপের পথে সাহিত্যকে নব নব ধারায় প্রবাহিত করে দেয । বঙ্কিমচন্দ্রের দিকে তাকালে দেখি সেই একই কথা । তিনি গল্পসাহিত্যের এক নতুন রূপ নিযে দেখা দিলেন। বিজযবসন্ত বা গোলেবকাওলির যে চেহারা ছিল সে চেহারা আর রইল না। র্তার পূর্বেকার গল্পসাহিত্যের ছিল মুখোশ-পরা রূপ, তিনি সেই মুখোশ ঘুচিয়ে দিয়ে গল্পের একটি সজীব মুখশ্রীর অবতারণা করলেন। হোমার বর্জিল মিলটন প্রভৃতি পাশ্চাত্য কবিদের কাছ থেকে মাইকেল তার সাধনার পথে উৎসাহ পেয়েছিলেন ; বঙ্কিমচন্দ্রও কথাসাহিত্যের রূপের আদর্শ পাশ্চাত্য লেখকদের কাছ থেকে নিযেছেন। কিন্তু এরা অনুকরণ করেছিলেন বললে জিনিসটাকে সংকীর্ণ করে বলা হয। সাহিত্যের কোনো-একটি প্রাণবান রূপে মুগ্ধ হয়ে সেই রূপটিকে তারা গ্রহণ করেছিলেন ; সেই রূপটিকে নিজের ভাষায় প্রতিষ্ঠিত করবার সাধনায তারা স্বষ্টিকর্তার আনন্দ পেযেছিলেন, সেই আনন্দে তারা বন্ধন ছিন্ন করেছেন, বাধা অতিক্রম করেছেন। এক দিক থেকে এটা অনুকরণ, আর-এক দিক থেকে এটা আত্নীকরণ । অনুকরণ করবার অধিকার আছে কার । যার আছে স্বষ্টি করবার শক্তি। আদান-প্রদানের বাণিজ্য চিরদিনই আর্টের জগতে চলেছে। মূলধন নিজের না হতে পারে, ব্যাঙ্কের থেকে টাকা নিযে ব্যাবসা নাহ্য শুরু হল, তা নিয়ে যতক্ষণ কেউ মুনফা দেখাতে পারে ততক্ষণ সে মূলধন তার আপনারই। যদি ফেলু করে তবেই প্রকাশ পায় ধনটা তার