পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাস্তব 义》 ইংরেজি পড়িষাছি। ইংরেজি শিক্ষা বাঙালির পক্ষে বাস্তব নহে, অতএব তাহা বাস্তবতার কারণও নহে, আর সেইজন্যই এখনকার সাহিত্য দেশের লোকসাধারণকে শিক্ষা ও আনন্দ দিতে পারে না । উত্তম কথা। কিন্তু দেশের যে-সব লোক ইংরেজি শেখে নাই তাহাদের তুলনায আমাদের সংখ্যা তো নগণ্য। কেহ তাহাদের তো কলম কাডিযা ল্য নাই। আমরা কেবল আমাদের অবাস্তবতার জোরে দেশের সমস্ত বাস্তবিকদের চেযে জিতিযা যাইব, ইহা স্বভাবের নিযম নহে । হযতো উত্তরে শুনিব, আমরা হারিতেছি । ইংরেজি যাহারা শেখে নাই তাহারাই দেশের বাস্তব সাহিত্য স্বষ্টি করিতেছে, তাহাই টিকিবে এবং তাহাতেই লোকশিক্ষণ হইবে। তাই যদি হয তবে আব ভাবনা কিসেব। বাস্তব সাহিত্যের বিপুল ক্ষেত্র ও আযোজন দেশ জুডিযা বহিযাছে, তাহার মধ্যে ছিটাফোট অবাস্তব মুহূর্তকালও টিকিতে পারিবে না। কিন্তু সেই বৃহৎ বাস্তব সাহিত্যকে চোখে দেখিলে কাজে লাগিত, একটা আদর্শ পাওযা যাইত। যতক্ষণ তাহার পরিচয নাই ততক্ষণ যদি গাযেব জোরে তাহাকে মানিয়া লই তবে সেটা বাস্তবিক হইবে না, কাল্পনিক হইবে । অথচ এ দিকে ইংরেজি-পোডোরা যে সাহিত্য স্থষ্টি করিল, রাগিযা তাহাকে গালি দিলেও সে বাডিয। উঠিতেছে ; নিন্দ কবিলেও তাহাকে অস্বীকার করিবার জো নাই। ইহাই বাস্তবের প্রকৃত লক্ষণ। এই-যে কোনো কোনো মানুষ খামখা রাগিয ইহাকে উড়াইযা দিবাব চেষ্টা করিতেছে তাহারও কারণ, এ স্বপ্ন নয, মায নয, এ বাস্তব। দেখ নাই কি, অ্যাংলো-ইণ্ডিযান কাগজরা কথাষ কথায বলিয়া থাকে, ভাবতবর্ষের মধ্যে বাঙালি জাতটা গণ্যই নহে । তাহাদের কথার বাজ দেখিলেই