পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যরূপ S.)〉 আমার অন্তবের শক্তি সেই প্রথম আপন রূপ নিযে দেখা দিল । সেই মুহূর্তেই এতদিনের বাইরের বন্ধন থেকে মুক্তি পেলুম। তখনকার দিনের প্রবীণ সাহিত্যিকরা আমার সেই কাব্যরূপটিকে সমাদর করেন নি, পরিহাসও করেছিলেন। তাতে আমি ক্ষুব্ধ হই নি, কেননা আমার আদর্শের সমর্থন আমার নিজেরই মধ্যে, বাইরেকার মাপকাঠির সাক্ষ্যকে স্বীকার করবার কোনো দরকারই ছিল না। সেদিন যে কাব্যরূপের দর্শন পেলুম সে নিঃসন্দেহই কোনো-একটা বিষ্য অবলম্বন করে এসেছিল, কিন্তু আনন্দ সেই বিষয়টিকে নিয়ে নয। সেই বিষযের মধ্যে কোনো অসামান্তত ছিল বলেই তৃপ্তি বোধ করেছি তাও নয। আত্মশক্তিকে অনুভব করেছিলুম কোনো-একটি প্রকাশরুপের স্বকীয বিশিষ্টতায । সে লেখাটি মোটের উপর নিতান্তই কাচা ; আজকের দিনে তা নিযে গৌরব করতে পারি নে। সেদিন আমার যে ব্যস ছিল আজ সে ব্যসের যে-কোনো বালক কবি তার চেযে অনেক ভালো লিখতে পারেন। তখনকার কালের ইংরেজি বা রাশীষ বিশেষ একটা পদ্ধতির সঙ্গে আমার সেই লেখাটা খাপ খেযে গেল এমন কথা বলতে পারি নে। আজ পর্যন্ত জানি নে, কোনো একটা যুগ-যুগান্তরের কোঠায তাকে ফেলা যায কি না। আমার নিজেরই রচনার স্বকীয যুগের আরম্ভসংকেত ব’লে তাকে গণ্য করা যেতে পারে । এই রূপস্থষ্টির আবির্ভাব একই কবির জীবনে বারবার ঘটে থাকে। রচনার আনন্দের প্রকাশই হচ্ছে নব নব রূপে । সেই নবরূপআবির্ভাবের দিনে প্রত্যেক বারেই অস্তরের প্রাঙ্গণে শাখ বেজে ওঠে, এ কথা সকল কবিই জানে। আমার জীবনে মানসী, সোনার তরী, ক্ষণিকা, পলাতকা আপন বিশেষ বিশেষ রূপ নিযেই উৎসব করেছে। সেই রূপের আনন্দেই রচনার বিষযগুলি হযেছে সার্থক। বিষযগুলি অনিবার্য কারণে আপনিই কালোচিত হযে ওঠে। মানবজীবনের মোটা