পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२. » २. সাহিত্যের পথে মোট কথাগুলো আন্তরিক ভাবে সকল সমযেই সমান থাকে বটে, কিন্তু তার বাইরের আকৃতি-প্রকৃতির বদল হয়। মানুষের আত্মোপলব্ধির ক্ষেত্র কালে কালে বিস্তৃত হতে থাকে। আগে হয়তো কেবল ঋষি মুনি রাজা প্রভৃতির মধ্যেই মনুষ্যত্বের প্রকাশ কবিদের কাছে স্পষ্ট ছিল ; এখন তার পরিধি সর্বত্র ব্যাপ্ত হয়ে গেছে। অতএব, বিষয়ের বৈচিত্র্য কালে কালে ঘটতে বাধ্য। কিন্তু, যখন সাহিত্যে আমরা তার বিচার করি, তখন কোন কথাটা বলা হযেছে তার উপরে ঝোক থাকে না। কেমন করে বলা হযেছে সেইটের উপরেই বিশেষ দৃষ্টি দিই। ডারুয়িনের অভিব্যক্তিবাদের মূল কথাটা হযতো মানবসাহিত্যে কখনো-না-কখনো বলা হযেছে, জগদীশচন্দ্র বৃক্ষের মধ্যে প্রাণের যে স্বরূপটি দেখাচ্ছেন হযতো মোটামুটিভাবে কোনো একটা সংস্কৃত শ্লোকের মধ্যে তার আভাস থাকতে পারে— কিন্তু, তাকে সাযান্স বলে না : সাযান্সের একটা ঠাটু আছে, যতক্ষণ সেই ঠাটের মধ্যে কোনো-একটা তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করা না যায ততক্ষণ তার বৈজ্ঞানিক মূল্য কিছুই নেই। তেমনি বিষযটি যত বড়োই হিতকর বা অপূর্ব হোক-না কেন, যতক্ষণ সে কোনো-একটা সাহিত্যরূপের মধ্যে চিরপ্রাণের শক্তি লাভ না করে ততক্ষণ কেবলমাত্র বিষযের দামে তাকে সাহিত্যের দাম দেওযা যায না। রচনার বিষযটি কালোচিত, যুগোচিত, এইটেতেই যার একমাত্র গৌরব তিনি উচুদরের মানুষ হতে পারেন, কিন্তু তিনি কবি নন, সাহিত্যিক নন। আমাদের দেশের লেখকদের একটা বিপদ আছে। য়ুরোপীয সাহিত্যের এক-একটা বিশেষ মেজাজ যখন আমাদের কাছে প্রকাশ পায তখন আমরা অত্যন্ত বেশি অভিভূত হই । কোনো সাহিত্যই একেবারে স্তব্ধ নয। তার চলতি ধারা বেয়ে অনেক পণ্য ভেসে আসে ; আজকের হাটে যা নিযে কাড়াকড়ি পড়ে যায কালই তা আবর্জনাকুণ্ডে স্থান পায়। অথচ আমরা তাকে স্থাবর বলে গণ্য করি ও তাকে চরম মূল্য দিযে