পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ց Տ Ե সাহিত্যের পথে সে আলোচনা অত্যন্ত অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে করি । আমি সেদিন যে আলোচনা উথাপিত করেছিলাম সে প্রসঙ্গে আমার মত আমি ব্যক্ত করেছি। সাহিত্যের মূলতত্ত্ব সম্বন্ধে, নীতি সম্বন্ধে, যা বক্তব্য সে আমার লেখায় বারবার বলেছি। গত বারে সে কথা কিছু কিছু আলোচিত হয়েছে। এখনকার যারা তরুণ সাহিত্যিক তারা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন, আমি কেন তাদের বিরুদ্ধে লিখেছিলাম কিম্বা তাদের মতের প্রতিবাদ করেছিলাম। আমি জানি, আমি কোনো ব্যক্তিবিশেষকে উপলক্ষ্য করে লিখি নি। কতকগুলি লেখা আমার চোখে পড়েছিল যেগুলিকে সাহিত্যধর্ম-বিগর্হিত মনে হয়েছিল। তাতে সমাজধর্মের যদি কোনো ক্ষতি করে থাকে, সমাজরক্ষার ব্রত যারা নিয়েছেন তারা সে বিষয়ে চিন্তা করবেন ; আমি সে দিক থেকে কখনও আলোচনা করি নি। আমি দেখাবার চেষ্টা করেছি, মানুষ যে-সকল মনের স্বষ্টিকে চিরন্তন মূল্য দিয়ে থাকে, চিরকাল রক্ষা করবার যোগ্য ও গৌরবের বিষয় বলে মনে করে, তাকে সাহিত্যে এবং আর্টে চিরকালের ভাষায়, চিরকালের চিত্রে চিত্রিত করে। আমাদের সব সাহিত্যের গোড়াতেই যে মহাকাব্য, স্পষ্টই দেখি, তার লক্ষ্য মানুষের দৈন্ত প্রচার— মানুষের লজ্জা ঘোষণা করা নয়— তার মাহাত্ম্য স্বীকার করা। সংসারধর্মে মানবচরিত্রে সত্যের সেই-সব প্রকাশকে র্তারা চিরকালের মূল্য দিয়েছেন যাকে তারা সর্বকাল ও সর্বজনের কাছে ব্যক্ত করবার ও রক্ষা করবার যোগ্য মনে করেছেন । যার মধ্যে র্তারা সৌন্দর্য দেখেছেন, মহিমা দেখেছেন, তাই তাদের রচনার আনন্দকে জাগিয়েছে। বাল্মীকি যেদিন ছন্দ পেলেন সেদিন অনুভব করলেন, এ ছন্দ কোনো মহৎ চরিত্র, কোনো পরম অনুভূতি প্রকাশ করবার জন্তে, এমন-কিছু যাতে মানবজীবনের পূর্ণতা, যাতে তার গৌরব। এর থেকে আমরা বুঝতে পারি, তখনকার লোক মনুষ্যত্বের কোন রূপকে শ্রেষ্ঠ বলে জানতেন। কলাবান