পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যসমালোচনা ২১৯ বাক্য যে বিষয়কে প্রকাশ করে তাকে আপন অলংকারের দ্বারা স্থায়ী মূল্য দেয়। সেকালের কবি খুব প্রকাণ্ড পটের উপর খুব বড়ো ছবি একেছেন এবং তাতে মানুষকে বড়ো করে দেখে মাকুম আনন্দ পেয়েছে। আমাদের মনের ভিতর যে-সব বেদনা, যে-সব আকাজক্ষা থাকে এবং আমরা যাকে অন্তরে অন্তরে খুব আদর করি, সেই আদরের যোগ্য ভাষা পাই না বলে বাইরে প্রকাশ করতে পারি না, পূজা করতে পারি না, অর্ঘ্য দিতে পারি না। আমাদের সে সম্পদ নেই, আমরা মন্দির রচনা করতে জানি না, যারা রচনা করেন ও যারা দেবতার প্রতিষ্ঠা করেন আমরা তাদের কাছ থেকে সুযোগ গ্রহণ করে আমাদের পুজা সেখানে দিই। বড়ো বড়ো জাতি সাহিত্যে বড়ে বড়ো পুজার জন্তে আমাদের অবকাশ রচনা করে দিয়েছেন। সমস্ত মাতুল সেখানে তাদের অর্ঘ্য নিয়ে যাবার সুযোগ লাভ করে তাদের কাছে কৃতজ্ঞ হয়েছে। সমাজের প্রভাতকালে প্রকাও একটা বীরত্বদৃপ্ত প্রাণসম্পদপূর্ণ মনুষ্যত্বের আনন্দময় চিত্ৰ মনের মধ্যে জাগিয়ে রেখে কবির রচনা করতে বেরিয়েছেন। অনেক সময় সমাজের পাথেয় নিঃশেষিত হয়ে যায় এবং বাইরের নানাপ্রকার ঘাতপ্রতিঘাতে ক্রমে ক্রমে পতন ঘটে। এইজন্ত যেটা মানুষের সভ্যতার অতি-পরিণতি তাতে বিকৃতি আসে, এরূপ পরিচয় আমরা প্রাচীন গ্রীস রোম ও অদ্যান্য দেশের ইতিহাসে বারংবার পেয়েছি। অবসাদের সময়ে কলুষটাই প্রবল হয়ে ওঠে। আমাদের দেহপ্রকৃতিতে অনেক রোগের বীজ আছে। শরীরের সবল অবস্থায় সেগুলি পরাহত হয়েই থাকে। এমন নয় যে তারা নেই। তাদের পরাভূত করে আরোগ্যশক্তি অব্যাহত থাকে। যে মুহূর্তে শরীর ক্লাস্ত হয়, জীর্ণ হয়, দুর্বল হয়, তখনই সেগুলি প্রবল হয়ে দেখা দেয়। ইতিহাসেও বারংবার এটা দেখেছি। যখন কোনো-একটা প্রবৃত্তি বা মনের ভাব প্রবল হয় তখন তার প্রবলতাকে চিরন্তন সত্য বলে বিশ্বাস না করে থাকতে পারি না, তাকে