পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२२. সাহিত্যের পথে বুঝা যায়, তাহারা বাঙালিকেই বিশেষভাবে গণ্য করিষাছে, কোনোমতেই ভুলিতে পারিতেছে না। ইংরেজি শিক্ষা সোনার কাঠির মতো আমাদের জীবনকে স্পর্শ করিযাছে, সে আমাদের ভিতরকার বাস্তবকেই জাগাইল । এই বাস্তবকে যে লোক ভয করে, যে লোক বাধা নিযমের শিকলটাকেই শ্রেষ বলিষা জানে, তাহারা ইংরেজই হউক আর বাঙালিই হউক, এই শিক্ষাকে ভ্রম এবং এই জাগরণকে অবাস্তব বলিযা উড়াইযা দিবার ভান করিতে থাকে। তাহাদের বাধা তর্ক এই যে, এক দেশের আঘাত আর-এক দেশকে সচেতন করে না। কিন্তু দূর দেশের দক্ষিনে হাওযায দেশান্তরে সাহিত্যকুঞ্জে ফুলের উৎসব জাগাইযাছে, ইতিহাসে তাহার প্রমাণ আছে। যেখান হইতে যেমন করিযাই হউক, জীবনের আঘাতে জীবন জাগিয উঠে, মানবচিত্ততত্ত্বে ইহা একটি চিরকালের বাস্তব ব্যাপার। কিন্তু লোকশিক্ষার কী হইবে । সে কথার জবাবদিহি সাহিত্যের নহে । লোক যদি সাহিত্য হইতে শিক্ষা পাইতে চেষ্টা করে তবে পাইতেও পারে কিন্তু সাহিত্য লোককে শিক্ষা দিবার জন্য কোনো চিন্তাই করে না । কোনো দেশেই সাহিত্য ইস্কুল-মাস্টারির ভার লয নাই। রামাযণ মহাভারত দেশের সকল লোকে পডে, তাহার কারণ এ ন্য যে তাহ কৃষাণের ভাষায লেখা বা তাহাতে দুঃখী-কাঙালের ঘরকবৃনার কথা বণিত। তাহাতে বড়ো বড়ো রাজা, বডো বড়ো রাক্ষস, বড়ো বডো বীর এবং বড়ো বডো বানরের বডো বড়ো লেজের কথাই আছে। আগাগোডা সমস্তই অসাধারণ। সাধারণ লোক আপনার গরজে এই সাহিত্যকে পডিতে শিখিযাছে। সাধারণ লোক মেঘদূত কুমারসম্ভব শকুন্তলা পড়ে না। খুব সম্ভব দিঙ নাগাচার্য এই ক’টা বইযের মধ্যে বাস্তবের অভাব দেখিযাছিলেন ।