পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२ २ o সাহিত্যের পথে একান্তভাবে অনুভব করি ব’লেই । সেই অনুভূতির জোরে প্রবৃত্তিকে নিযে আমরা বড়াই করতে শুরু করি। এইজন্য এক-একটা সময আসে যখন এক-একটা জাতির মধ্যে মানুষের ভিতরকার বিকৃতিগুলিই উগ্র হযে দেখা দেয । ইংরেজিসাহিত্যের ভিতর যখন অত্যন্ত একটা কলুষ এসেছিল সে উদ্ধত হযেই নির্লজ্জ হযেই আপনাকে প্রকাশ করেছিল। তার পর আবার সেটা কেটে গেছে। ফরাসীবিপ্লবের সময ইংরেজ কবিদের মধ্যে অনেকে বিদ্রোহের কথা বলেছেন ; প্রচলিত সমাজনীতি, প্রচলিত ধর্মনীতিকে গুরুতর আঘাত করেছেন । মানুষের মনকে কর্মকে মোহমুক্ত করে পূর্ণতা দান করবার জন্তে তাদের কাব্যে সাহিত্যে খুব একটা আগ্রহ দেখা গেছে । তখনকার সমাজে তাদের কাব্য নিন্দিত হয়েছে, কিন্তু কালের হাতে তার সমাদর বেড়ে গেল । এ দিকে বিশেষ কোনো যুগে যে-সব লালসার কাব্যকীর্তন প্রকাশিত হযেছিল তারা সেকালের বিদগ্ধদের কাছে সম্মান পেযেছে ; মনে হযতো হযেছিল, এইটেই সাহিত্যের চরম উৎকর্ষ। তবু পরে প্রকাশ পেযেছে, এ জিনিসটা সেই যুগের ক্ষণকালীন উপসর্গ। আমাদের সংস্কৃতসাহিত্যেও এই বিকৃতি অনেক দেখা গিযেছে। যখন সংস্কৃতসাহিত্যে সাধনার দৈন্ত এসেছিল তখন কাব্যে তার পরিচয় ফুটে উঠেছে। বর্তমান কালের আরম্ভে কবির লড়াই, পাচালি, তর্জ প্রভূতিতে সাহিত্যের যে বিকার দেখা দিয়েছিল সেগুলিতে বীর্যবান জাতির প্রবল উন্নতির বা মহৎ আকাজক্ষার পরিচয় নেই। তার ভিতর অত্যন্ত পঙ্কিলতা আছে। সমাজের পথযাত্রার পাথেয হচ্ছে উৎকর্ষের জন্তে আকাজক্ষা । জীবনের মধ্যে ব্যবহারে তার প্রকাশ খণ্ডিত হযে যায বলেই মনে তার জন্তে যে আকাঙ্ক্ষা আছে তাকে রত্বের মতো সাহিত্যের বহুমূল্য কোঁটোর মধ্যে রেখে দিই— তাকে সংসারযাত্রায় ব্যক্ত সত্যের চেয়ে সম্পূর্ণতর করে উপলব্ধি করি। এই আকাঙ্ক্ষা যতক্ষণ মহৎ থাকে