পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যসমালোচনা ২২৭ ‘মণিমুক্ত' যা মনকে বিকৃত করে সেগুলিকে সংগ্রহ করে সকলের কাছে প্রকাশ করলে উদ্দেশ্যের বিপরীত দিকে যাওযা হয । আধুনিক সাহিত্য যে জিনিস বরাবর সাহিত্যে বর্জিত হযে এসেছে, যাকে কলুষ বলি, তাকেই চরম বর্ণনীয বিষ্য করে দেখানে এক শ্রেণীর আধুনিক সাহিত্যিকদের একটা বিশেষ লক্ষ্য। এবং এইটে অনেকে স্পর্ধার বিষয মনে করেন। কেউ কেউ বলছেন, এ সব প্রতিক্রিযার ফল । আমি বলব প্রতিক্রিযা কখনোই প্রকৃতিস্থত নয। তা ক্ষণস্থায়ী অবস্থা মাত্র প্রকাশ করে, তা চিরন্তন হতে পারে না । যেমনতরো কোনোসময বাতাস গরম হযে প্রতিক্রিযায ঝড় আসতে পারে অথচ কেউ বলতে পারেন না, এর পর থেকে বরাবর কেবল ঝড়ই উঠবে। ঈশ্বরকে মানি নে, ভালোবাসা মানি নে, সুতরাং আমরা সাহিত্যে বিশেষ কৌলীন্ত লাভ করেছি, এমন কথা মনে করার চেযে মুঢ়তা আর কিছু হতে পারে না । ঈশ্বরকে মানি না বা বিশ্বাস করি না, সেটাতে সাহিত্যিকতা কোথায। ভালোবাসা মানছি না, অতএব যারা ভালোবাসা মানে তাদেরকে অনেক দূর ছাড়িযে গিযেছি, সাহিত্য প্রসঙ্গে এ কথা বলে লাভ কী । “শনিবারের চিঠি’র সমালোচনা “শনিবারের চিঠি’ যদি সাহিত্যের সীমার মধ্যে থেকে বিশুদ্ধভাবে সম্পূর্ণভাবে সমালোচনার পথে অগ্রসর হন, তা হলে বেশি ফললাভ করবেন এই আমার বিশ্বাস। যদি একান্তভাবে দোষ নির্ণয করবার দিকে সমস্ত চিত্ত নিবিষ্ট করি তা হলে সেটা মাথায চেপে যায, তাতে