পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৩১ পঞ্চাশোধব মৃ পঞ্চাশ বছরের পরে সংসার থেকে সরে থাকার জন্য মন্ত্র আদেশ করেছেন । যাকে তিনি পঞ্চাশ বলেছেন, সে একটা গণিতের অঙ্ক নয়, তার সম্বন্ধে ঠিক ঘড়িধরা হিসাব চলে না। ভাবখানা এই যে, নিরস্তরপরিণতি জীবনের ধর্ম নষ। শক্তির পরিব্যাপ্তি কিছুদিন পর্যন্ত এগিযে চলে, তার পরে পিছিযে আসে। সেই সমযটাতেই কর্মে যতি দেবার সময ; না যদি মানা যায, তবে জীবনযাত্রার ছন্দোভঙ্গ হয । জীবনের ফসল সংসারকে দিযে যেতে হবে। কিন্তু যেমন তেমন করে দিলেই হল না। শাস্ত্র বলে ‘শ্রদ্ধযা দেযম্’ ; যা আমাদের শ্রেষ্ঠ তাই দেওযাই শ্রদ্ধার দান— সে না কুঁড়ির দান, না ঝরা ফুলের। ভরা ইন্দারায নির্মল জলের দাক্ষিণা, সেই পুর্ণতার সুযোগেই জলদানের পুণ্য। দৈন্ত যখন এসে তাকে তলার দিকে নিযে যায, তখন যতই টানাটানি করি ততই ঘোলা হযে ওঠে। তখন এ কথা যেন প্রসন্ন মনে বলতে পারি যে, থাকৃ, আর কাজ নেই। বর্তমান কালে আমরা বড়োবেশি লোকচক্ষুর গোচরে। আর পঞ্চাশ বছর পূর্বেও এত বেশি দৃষ্টির ভিড় ছিল না। তখন আপন-মনে কাজ করার অবকাশ ছিল, অর্থাৎ কাজ না করাটাও আপন মনের উপরই নির্ভর করত, হাজার লোকের কাছে তার জবাবদিহি ছিল না । মতু যে ‘বনং ব্রজেৎ’ বলেন, সেই ছুটি নেবার বনটা হাতের কাছেই ছিল ; আজ সেটা আগাগোড়া নির্মূল। আজ মন যখন বলে ‘আর কাজ নেই’, বহু দৃষ্টির অনুশাসন দরজা আগলে বলে ‘কাজ আছে বইকি’— পালাবার পথ থাকে না । জনসভায ঠাসা ভিড়ের মধ্যে এসে পড়া গেছে। পাশ কাটিযে চুপিচুপি সরে পড়বার জো নেই। ঘরজোড়া বহু চক্ষুর ভর্ৎসনা