পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৩২ সাহিত্যের পথে এড়াবে, কার সাধ্য ? চারি দিক থেকে রব ওঠে, ‘যাও কোথায় এরই মধ্যে ? ভগবান মনুর क? সম্পূর্ণ চাপা পড়ে যায় । যে কাজটা নিজের অস্তরের ফর্মাশে তা নিয়ে বাহিরের কাছে কোনো দায় নেই। কিন্তু, দুর্ভাগ্যক্রমে সাহিত্যে বাহিরের দাবি দুর্বার। যে মাছ জলে আছে তার কোনো বালাই নেই, যে মাছ হাটে এসেছে তাকে নিয়েই মেছোবাজার। সত্য করেই হোক, ছল করেই হোক, রাগের ঝাঝে হোক, অমুরাগের ব্যথায় হোক, যোগ্য ব্যক্তিই হোক, অযোগ্য ব্যক্তিই হোক, যে-সে যখন-তখন যাকে-তাকে বলে উঠতে পারে, “তোমার রসের জোগান কমে আসছে, তোমার রূপের ডালিতে রঙের রেশ ফিকে হয়ে এল। তর্ক করতে যাওয়া বৃথা ; কারণ, শেষ যুক্তিটা এই যে, “আমার পছন্দমাফিক হচ্ছে না।” “তোমার পছন্দের বিকার হতে পারে? ‘তোমার সুরুচির অভাব থাকতে পারে? এ কথা বলে লাভ নেই। কেননা, এ হল রুচির বিরুদ্ধে রুচির তর্ক ; এ তর্কে দেশকালপাত্রবিশেষে কটুভাষার পন্ধিলত মথিত হয়ে ওঠে। এমন অবস্থায় শাস্তির কটুত্ব কমাবার জন্তে সবিনয় দীনতা স্বীকার করে বলা ভালো যে, স্বভাবের নিয়মেই শক্তির হ্রাস ; অতএব শক্তির পূর্ণতাকালে যে উপহার দেওয়া গেছে তারই কথা মনে রেখে, অনিবার্য অভাবের সময়কার ত্রুটি ক্ষমা করাই সৌজন্তের লক্ষণ। শ্রাবণের মেঘ আশ্বিনের আকাশে বিদায় নেবার বেলায় ধারাবর্ষণে যদি ক্লাস্তি প্রকাশ করে তবে জনপদবধুরা তাই নিয়ে কি তাকে দুয়ো দেয়। আপন নবশ্বামল ধানের খেতের মাঝখানে দাড়িয়ে মনে কি করে না আষাঢ়ে এই মেঘেরই প্রথম সমাগমের দাক্ষিণ্যসমারোহের কথা । কিন্তু, আশ্চর্যের বিষয় এই যে, সাহিত্যের ক্ষেত্রেই এই সৌজন্তের দাবি প্রায় ব্যর্থ হয়। বৈষয়িক ক্ষেত্রেও পূর্বকৃত কর্যের প্রতি কৃতজ্ঞতার তদ্ররীতি আছে। পেনশনের প্রথা তার প্রমাণ। কিন্তু, সাহিত্যেই