পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পঞ্চাশোধৰ্ম ২৩৩ পূর্বের কথা স্মরণ ক’রে শক্তির হ্রাস ঘটাকে অনেকেই ক্ষমা করতে চায না। এই তীব্র প্রতিযোগিতার দিনে অনেকেই এতে উল্লাস অনুভব করে। কষ্টকল্পনার জোরে হালের কাজের ক্রাট প্রমাণ ক’রে সাবেক কাজের মূল্যকে খর্ব করবার জন্যে তাদের উত্তপ্ত আগ্রহ। শোনা যায, কোনো কোনো দেশে এমন মানুষ আছে যারা তাদের সমাজের প্রবীণ লোকের শক্তির কৃশতা অনুমান করলে তাকে বিনা বিলম্বে চালের উপর থেকে নীচে গড়িয়ে মারে। মানুষকে উচ্চ চালের থেকে নীচে ভূমিসাৎ করবার ছুতো খুঁজে বেড়ানো, কেবল আফ্রিকাষ নয়, আমাদের সাহিত্যেও প্রচলিত। এমনতরো সংকটসংকুল অবস্থায জনসভার প্রধান আসন থেকে নিস্কৃতি লওয সংগত ; কেননা, এই প্রধান আসনগুলোই চালের উপরিতল, হিংস্রতা-উদূবোধন করবার জাযগা । আমাদের ভারতবর্ষীয প্রকৃতি কেবলমাত্র সাহিত্যের কৃতিত্বকে কোনো মানুষের পক্ষেই চরম লক্ষ্য বলে মানতে চাষ না । একদা তাকে অতিক্রম করবার সাধনাও মনে রাখতে হবে । জীবনের পচিশ বছর লাগে কর্মের জন্তে প্রস্তুত হতে, কাচা হাতকে পাকাবার কাজে । তার পরে পচিশ বছর পূর্ণ শক্তিতে কাজ করবার সময। অবশেষে ক্রমে ক্রমে সেই কর্মের বন্ধন থেকে মুক্তি নেবার জন্তে আরও পচিশ বছর দেওয চাই। সংসারের পুরোপুরি দাবি মাঝখানটাতে ; আরম্ভেও নয, শেষেও নষ । এই ছিল আমাদের দেশের বিধান । কিন্তু পশ্চিমের নীতিতে কর্তব্যটাই শেষ লক্ষ্য, যে মানুষ কর্তব্য করে সে নয। আমাদের দেশে কর্মের যন্ত্রটাকে স্বীকার করা হযেছে, কর্মীর আত্মাকেও । সংসারের জন্তে মাহমকে কাজ করতে হবে, নিজের জন্তে মানুষকে মুক্তি পেতেও হবে । কর্ম করতে করতে কর্মের অভ্যাস কঠিন হয়ে ওঠে এবং তার