পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৩৪ সাহিত্যের পথে অভিমান । এক সমযে কর্মের চলতি স্রোত আপন বালিব বাধ আপনি বাধে, আর সেই বন্ধনের অহংকারে মনে করে সেই সীমাই চরম সীমা, তাব উর্ধের্ব আর গতি নেই। এমনি করে ধর্মতন্ত্র যেমন সাম্প্রদাযিকতাব প্রাচীর পাকা করে আপন সীমা নিযেই গর্বিত হয, তেমনি সকল প্রকার কর্মই একটা সাম্প্রদাযিকতার ঠাট গড়ে তুলে সেই সীমাটার শ্রেষ্ঠত্ব কল্পনা ও ঘোষণা করতে ভালোবাসে । সংসারে যতকিছু বিরোধ এই সীমায সীমায বিরোধ, পরস্পরেব বেডাব ধারে এসে লাঠালাঠি । এইখানেই যত ঈর্ষা বিদ্বেষ ও চিত্তবিকাব । এই কলুষ থেকে সংসারকে রক্ষা করবার উপায কর্ম হতে বেরিযে পডবাব পথকে বাধামুক্ত রেখে দেওযা। সাহিত্যে একটা ভাগ আছে যেখানে আমবা নিজের অধিকাবে কাজ করি, সেখানে বাহিরের সঙ্গে সংঘাত নেই। আর একটা ভাগ আছে যেখানে সাহিত্যের পণ্য আমরা বাহিরের হাটে আনি, সেইখানেই হট্টগোল। একটা কথা স্পষ্ট বুঝতে পারছি, এমন দিন আসে যখন এইখানে গতিবিধি যথাসম্ভব কমিযে আনাই ভালো। নইলে বাইরে ওড়ে ধুলোর ঝড়, নিজের ঘটে অশাস্তি ; নইলে জোযান লোকদের কচুযের ঠেলা গাযে প’ডে পাজরের উপর অত্যাচার করতে থাকে। সাহিত্যলোকে বাল্যকাল থেকেই কাজে লেগেছি। আরম্ভে খ্যাতিব চেহারা অনেক কাল দেখি নি। তখনকার দিনে খ্যাতির পরিসর ছিল অল্প ; এইজন্যই বোধ করি, প্রতিযোগিতার পরুষতা তেমন উগ্র ছিল না। আত্মীযমহলে যে কযজন কবির লেখা সুপরিচিত ছিল, তাদের কোনোদিন লঙ্ঘন করব বা করতে পারব, এমন কথা মনেও করি নি। তখন এমন কিছু লিখি নি যার জোরে গৌরব করা চলে, অথচ এই শক্তিদৈন্তের অপরাধে ব্যক্তিগত বা কাব্যগত এমন কটুকাটব্য শুনতে হয় নি যাতে সংকোচের কারণ ঘটে ।