পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পঞ্চাশোধৰ্ম ২৩৫ সাহিত্যের সেই শিথিল শাসনের দিন থেকে আরম্ভ করে গদ্যে পদ্যে আমার লেখা এগিয়ে চলেছে, অবশেষে আজ সত্তর বছরের কাছে এসে পোছলেম। আমার দ্বারা যা করা সম্ভব সমস্ত অভাব ক্রটি সত্ত্বেও তা করেছি। তবু যতই করি না কেন আমার শক্তির একটা স্বাভাবিক সীমা আছে, সে কথা বলাই বাহুল্য। কারই বা নেই। এই সীমাটি দুই উপকূলের সীমা। একটা আমার নিজের প্রকৃতিগত, আর একটা আমার সময়ের প্রকৃতিগত। জেনে এবং না জেনে আমরা এক দিকে প্রকাশ করি নিজের স্বভাবকে এবং অদ্য দিকে নিজের কালকে। রচনার ভিতর দিয়ে আপন হৃদযের যে পরিতৃপ্তি সাধন করা যায় সেখানে কোনো হিসাবের কথা চলে না । যেখানে কালের প্রযোজন সাধন করি সেখানে হিসাবনিকাশের দায়িত্ব আপনি এসে পড়ে । সেখানে বৈতরণীর পারে চিত্রগুপ্ত খাতা নিয়ে বসে আছেন। ভাষায ছন্দে নুতন শক্তি এবং ভাবে চিত্তের নূতন প্রসার সাহিত্যে নুতন যুগের অবতারণা করে। কী পরিমাণ তারই আয়োজন করা গেছে তার একটা জবাবদিহি আছে । কখন কালের পরিবর্তন ঘটে, সব সময়ে ঠিক বুঝতে পারি নি। নূতন ঋতুতে হঠাৎ নুতন ফুল-ফল-ফসলের দাবি এসে পড়ে। যদি তাতে সাড়া দিতে না পারা যায় তবে সেই স্থাবরতাই স্থবিরত্ব প্রমাণ করে। তখন কালের কাছ থেকে পারিতোষিকের আশা করা চলে না, তখনই কালের আসন ত্যাগ করবার সময় । যাকে বলছি কালের আসন সে চিরকালের আসন নয়। স্থায়ী প্রতিষ্ঠা স্থির থাকা সত্ত্বেও উপস্থিত কালের মহলে ঠাইবদলের হুকুম যদি আসে, তবে সেটাকে মানতে হবে। প্রথমটা গোলমাল ঠেকে। নতুন অভ্যাগতের নতুন আকার প্রকার দেখে তাকে অভ্যর্থনা করতে বাধা লাগে, সহসা বুঝতে পারি নে— সেও এসেছে বর্তমানের শিখর অধিকার