পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ა x5ჯ. সাহিত্যের পথে করে চিবকালেব আসন জয করে নিতে। একদা সেখানে তারও স্বত্ব স্বীকৃত হবে, গোডায তা মনে কবা কঠিন হয বলে এই সন্ধিক্ষণে একটা সংঘাত ঘটতেও পারে। মানুষের ইতিহাসে কাল সব সমযে নুতন করে বাসা বদল করে না। যতক্ষণ দ্বারে একটা প্রবল বিপ্লবের ধাক্কা না লাগে ততক্ষণ সে খরচ বাঁচাবার চেষ্টায থাকে, আপন পূর্বদিনের অনুবৃত্তি করে চলে, দীর্ঘকালের অত্যন্ত রীতিকেই মাল্যচন্দন দিযে পূজা করে, অলসভাবে মনে করে সেটা সনাতন। তখন সাহিত্য পুরাতন পথেই পণ্য বহন করে চলে, পথনির্মাণের জন্য তার ভাবনা থাকে না। হঠাৎ একদিন পুরাতন বাসায তার আর সংকুলান হ্য না । অতীতের উত্তর দিক থেকে হাওযা বওয বন্ধ হয, ভবিষ্যতের দিক থেকে দক্ষিণ-হাওযা চলতে শুরু করে । কিন্তু, বদলের হাওযা বইল বলেই যে নিন্দার হাওয তুলতে হবে, তার কোনো কারণ নেই। পুরাতন আশ্রযের মধ্যে সৌন্দর্যের অভাব আছে, যে অকৃতজ্ঞ অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে সেই কথা বলবার উপলক্ষ খোজে তাব মন সংকীর্ণ, তার স্বভাব রূঢ় | আকবরের সভায যে দববারি আসর জমেছিল, নবদ্বীপেব কীর্তনে তাকে খাটানো গেল না । তাই বলে দরবাবি তোড়িকে গ্রাম্যভাষায গাল পাডতে বসা বর্বরতা। নূতন কালকে বিশেষ আসন ছেড়ে দিলেও দরবারি তোড়ির নিত্য আসন আপন মর্যাদায অক্ষুণ্ণ থাকে। গোডা বৈষ্ণব তাকে তাচ্ছিল্য ক’রে যদি খাটাে কবতে চাষ তবে নিজেকেই খাটাে করে। বস্তুত নূতন আগন্তুককেই প্রমাণ করতে হবে, সে নুতন কালের জন্ত নুতন অর্ঘ্য সাজিযে এনেছে কি না । কিন্তু, নূতন কালের প্রয়োজনটি ঠিক যে কী সে তার নিজের মুখের আবেদন শুনে বিচার করা চলে না, কারণ, প্রয়োজনটি অন্তর্নিহিত । হয়তো কোনো আশু উত্তেজনা, বাইরের কোনো আকস্মিক মোহ, তার