পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পঞ্চাশোধৰ্বম २७१ অন্তর্গুঢ় নীরব আবেদনের উন্টো কথাই বলে ; হ্যতে হঠাৎ একটা আগাছার দুর্দমতা তার ফসলের ক্ষেতের প্রবল প্রতিবাদ করে ; হযতো একটা মুদ্রাদোষে তাকে পেযে বসে, সেইটেকেই সে মনে করে শোভন ও স্বাভাবিক। আত্মীযসভায সেটাতে হযতো বাহবা মেলে, কিন্তু সর্বকালের সভায সেটাতে তার অসম্মান ঘটে । কালের মান রক্ষা ক’রে চললেই যে কালের যথার্থ প্রতিনিধিত্ব করা হয, এ কথা বলব না। এমন দেখা গেছে, যারা কালের জন্য সত্য অৰ্ঘ্য এনে দেন তারা সেই কালের হাত থেকে বিরুদ্ধ আঘাত পেযেই সত্যকে সপ্রমাণ করেন। আধুনিক যুগে, যুরোপের চিত্তাকাশে যে হাওযার মেজাজ বদল হয আমাদের দেশের হাওযায তারই ঘুর্ণি-আঘাত লাগে। ভিক্টোরিযা-যুগ জুড়ে সেদিন পর্যন্ত ইংলণ্ডে এই মেজাজ প্রায সমভাবেই ছিল। এই দীর্ঘকালের অধিক সময সেখানকার সমাজনীতি ও সাহিত্যরীতি একটানা পথে এমনভাবে চলেছিল যে মনে হযেছিল যে, এ ছাড আর গতি নেই। উৎকর্ষের আদর্শ একই কেন্দ্রের চাবি দিকে আবর্তিত হযে প্রাগ্রসর উদ্যমকে যন নিরস্ত করে দিলে। এই কারণে কিছুকাল থেকে সেখানে সমাজে, সাহিত্যকলাস্থষ্টিতে, একটা অধৈর্যের লক্ষণ দেখা দিযেছে। সেখানে বিদ্রোহী চিত্ত সবকিছু উলট-পালট করবাব জন্য কোমর বাধল, গানেতে ছবিতে দেখা দিল যুগাস্তের তাণ্ডবলীলা । কী চাই সেটা স্থির হল না, কেবল হাওযায একটা রব উঠল “আর ভালো লাগছে না” । যা-করে হোক আর-কিছু-একটা ঘটা চাই। যেন সেখানকার ইতিহাসের একটা বিশেষ পর্ব ময়ূর বিধান মানতে চাষ নি, পঞ্চাশ পেরিযে গেল তবু ছুটি নিতে তার মন ছিল না। মহাকালের উন্মত্ত চরগুলো একটি একটি করে তার অঙ্গনে ক্রমে জুটতে লাগল ; ভাবখানা এই যে, উৎপাত করে ছুটি নেওযাবেই। সেদিন তার আর্থিক জমার খাতায ঐশ্বর্যের অঙ্কপাত নিরবচ্ছিন্ন বেড়ে চলছিল। এই সমৃদ্ধির সঙ্গে শাস্তি চিরকালের জন্তে