পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SSbr সাহিত্যের পথে বাধা, এই ছিল তার বিশ্বাস । মোটা মোটা লোহার সিন্ধুকগুলোকে কোনো-কিছুতে নড়াচড় করতে পারবে, এ কথা সে ভাবতেই পারে নি। এইজন্য একঘেয়ে উৎকর্ষের বিরুদ্ধে অনিবার্য চাঞ্চল্যকে সে দিনের মানুষ ঐ লোহার সিন্ধুকের ভরসায় দমন করবার চেষ্টায় ছিল। এমন সময় হাওয়ায় এ কী পাগলামি জাগল। একদিন অকালে হঠাৎ জেগে উঠে সবাই দেখে, লোহার সিন্ধুকে সিন্ধুকে ভয়ংকর মাথা-ঠোকাঠুকি ; বহুদিনের স্বরক্ষিত শাস্তি ও পুঞ্জীভূত সম্বল ধুলোয় ধূলোয় ছড়াছড়ি ; সম্পদের জয়তোরণ তলার উপর তলা গেঁথে ইন্দ্রলোকের দিকে চুড়া তুলেছিল, সেই ঔদ্ধত্য ধরণীর ভারাকর্ষণ সইতে পারল না— এক মুহূর্তে হল ভূমিসাৎ । পুষ্টদেহধারী তুষ্টচিত্ত পুরাতনের মর্যাদা আর রইল না। নুতন যুগ আলুথালু বেশে অত্যন্ত হঠাৎ এসে পড়ল, তাড়াহুড়ো বেধে গেল, গোলমাল চলছে— সাবেক কালের কর্তাব্যক্তির ধমকানি আর কানে পৌছায় না। অস্থায়িত্বের এই ভয়ংকর চেহারা অকস্মাৎ দেখতে পেযে কোনোকিছুর স্থায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধা লোকের একেবারে আলগা হয়ে গেছে। সমাজে সাহিত্যে কলারচনায অবাধে নানাপ্রকারের অনাস্থষ্টি শুরু হল । কেউ বা ভয় পায়, কেউ বা উৎসাহ দেয়, কেউ বলে ‘ভালো মানুষের মতে থামো’, কেউ বলে ‘মরীয়া হয়ে চলো’। এই যুগান্তরের ভাঙচুরের দিনে যারা নুতন কালের নিগুঢ় সত্যটিকে দেখতে পেয়েছেন ও প্রকাশ করছেন তারা যে কোথায, তা এই গোলমালের দিনে কে নিশ্চিত করে বলতে পারে। কিন্তু, এ কথা ঠিক যে, যে যুগ পঞ্চাশ পেরিয়েও তক্ত আঁকড়ে গদিযান হয়ে বসে ছিল, নুতনের তাড়া খেয়ে লোটাকম্বল হাতে বনের দিকে সে দৌড় দিয়েছে। সে ভালো কি এ ভালো সে তর্ক তুলে ফল নেই ; আপাতত এই কালের শক্তিকে সার্থক করবার উপলক্ষে নানা লোকে নব নব প্রণালীর প্রবর্তন করতে বসল। সাবেক প্রণালীর সঙ্গে