পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পঞ্চাশোধৰ্বম ২৩৯ মিল হচ্ছে না বলে যারা উদ্ধৃবেগ প্রকাশ করছে তারাও ঐ পঞ্চাশোর্ধের্বর দল, বনের পথ ছাড়া তাদের গতি নেই। তাই বলছিলেম, ব্যক্তিগত হিসাবে যেমন পঞ্চাশোধৰ্ম আছে, কালগত হিসাবেও তেমনি । সময়ের সীমাকে যদি অতিক্রম করে থাকি তবে সাহিত্যে অসহিষ্ণুতা মথিত হযে উঠবে। নবাগত ধারা তার যেপর্যন্ত নবযুগে নূতন আদর্শ প্রতিষ্ঠিত করে নিজের প্রতিষ্ঠালাভ না করবেন সে-পর্যন্ত শাস্তিহীন সাহিত্য কলুষলিপ্ত হবে। ‘পুরাতনকে অতিক্রম করে নূতনকে অভূতপূর্ব করে তুলবই এই পণ করে বসে নবসাহিত্যিক যতক্ষণ নিজের মনটাকে ও লেখনীটাকে নিযে অত্যন্ত বেশি টানাটানি করতে থাকবেন, ততক্ষণ সেই অতিমাত্র উদবেজনায ও আলোড়নে স্বষ্টিকার্য অসম্ভব হযে উঠবে। যেটাকে মানুষ পেযেছে সাহিত্য তাকেই যে প্রতিবিম্বিত করে, তা নয ; যা তার অনুপলব্ধ, তার সাধনার ধন, সাহিত্যে প্রধানত তারই জন্য কামনা উজ্জ্বল হযে ব্যক্ত হতে থাকে। বাহিরের কর্মে যে প্রত্যাশা সম্পূর্ণ আকার লাভ করতে পারে নি, সাহিত্যে কলারচনায তারই পরিপূর্ণতার কল্পরূপ নানা ভাবে দেখা দেয। শাস্ত্র বলে, ইচ্ছাই সত্তার বীজ। ইচ্ছাকে মারলে ভববন্ধন ছিন্ন হয। ইচ্ছার বিশেষত্ব অনুসরণ ক’রে আত্মা বিশেষ দেহ ও গতি লাভ করে। বিশেষ যুগের ইচ্ছ, বিশেষ সমাজের ইচ্ছা, সেই যুগের সেই সমাজের আত্মরূপস্থষ্টির বীজশক্তি। এই কারণেই র্যার রাষ্ট্রক লোকগুরু তারা রাষ্ট্ৰীয মুক্তির ইচ্ছাকে সর্বজনের মধ্যে পরিব্যাপ্ত করতে চেষ্টা করেন, নইলে মুক্তির সাধনা দেশে সত্যরূপ গ্রহণ করে না । সাহিত্যে মানুষের ইচ্ছারূপ এমন ক’রে প্রকাশ পায যাতে সে মনোহর হযে ওঠে, এমন পরিস্ফুট মুতি ধরে যাতে সে ইন্দ্ৰিযগোচর বিষযের চেযে প্রত্যযগম্য হয়। সেই কারণেই সমাজকে সাহিত্য একটি