পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२,88 সাহিত্যের পথে কথায়-বার্তায় পত্রব্যবহারে সাহিত্যরচনায় ইংরেজিভাষার বাইরে প৷ বাড়ানো তখনকার শিক্ষিতদের পক্ষে ছিল আকৌলীষ্ঠের লক্ষণ। বাংলাভাষা তখন সংস্কৃত-পণ্ডিত ও বাংলা-পণ্ডিত দুই দলের কাছেই ছিল অপাঙক্তেয়। এ ভাষার দারিদ্র্যে তার লজ্জাবোধ করতেন। এই ভাষাকে তারা এমন একটি অগভীর শীর্ণ নদীর মতো মনে করতেন যার ইটুজলে পাড়াগেয়ে মানুষের প্রতিদিনের সামান্ত ঘোরো কাজ চলে মাত্র, কিন্তু দেশবিদেশের পণ্যবাহী জাহাজ চলতে পারে না । তবু এ কথা মানতে হবে, এই অহংকারের মূলে ছিল পশ্চিম-মহাদেশ হতে আহরিত নুতন-সাহিত্যরস-সম্ভোগের সহজ শক্তি। সেটা বিস্ময়ের বিষয়, কেননা, তাদের পূর্বতন সংস্কারের সঙ্গে এর সম্পূর্ণ বিচ্ছেদ ছিল। অনেক কাল মনের জমি ঠিকমত চাষের অভাবে ভরা ছিল আগাছায়, কিন্তু তার অন্তরে অন্তরে সফলতার শক্তি ছিল প্রচ্ছন্ন ; তাই কৃষির স্বচনা হবা মাত্রই সাড়া দিতে সে দেরি করলে না। পূর্বকালের থেকে তার বর্তমান অবস্থার যে প্রভেদ দেখা গেল তা দ্রুত এবং বৃহৎ । তার একটা বিস্ময়কর প্রমাণ দেখি রামমোহন রায়ের মধ্যে । সেদিন তিনি যে বাংলাভাষায় ব্রহ্মস্থত্রের অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করতে প্রবৃত্ত হলেন সে ভাষার পূর্বপরিচয় এমন-কিছুই ছিল না যাতে করে তার উপরে এত বড়ে দুরূহতার-অর্পণ সহজে সম্ভবপর মনে হতে পারত। বাংলাভাষায় তখন সাহিত্যিক গদ্য সবে দেখা দিতে আরম্ভ করেছে, নদীর তটে সদ্যশায়িত পলিমাটির স্তরের মতো। এই অপরিণত গদ্যেই দুর্বোধ তত্ত্বালোচনার ভারবহ ভিত্তি সংঘটন করতে রামমোহন কুষ্ঠিত হলেন না। এই যেমন গদ্যে, পদ্যে তেমনি অসম সাহস প্রকাশ করলেন মধুস্থদন। পাশ্চাত্য হোমর-মিল্টন-রচিত মহাকাব্যসঞ্চারী মন ছিল তার। তার রসে তিনি একান্তভাবে মুগ্ধ হয়েছিলেন বলেই তার ভোগমাত্রেই স্তব্ধ থাকতে পারেন নি। আষাঢ়ের আকাশে সজলনীল মেঘপুঞ্জ থেকে গর্জন