পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ংলাসাহিত্যের ক্রমবিকাশ ९86, নামল, গিরিগুহা থেকে তার অনুকরণে প্রতিধ্বনি উঠল মাত্র, কিন্তু আনন্দচঞ্চল ময়ূর আকাশে মাথা তুলে সাড়া দিলে আপন কেকাধবনিতেই। মধুস্থদন সংগীতের দুৰ্নিবার উৎসাহ ঘোষণা করবার জন্যে আপন ভাষাকেই বক্ষে টেনে নিলেন। যে যন্ত্র ছিল ক্ষীণধ্বনি একতারা তাকে অবজ্ঞা করে ত্যাগ করলেন না, তাতেই তিনি গম্ভীর মুরের নানা তার চড়িযে তাকে রুদ্রবীণা করে তুললেন। এ যন্ত্র একেবারে নতুন, একমাত্র র্তারই আপন-গড়া। কিন্তু, তার এই সাহস তো ব্যর্থ হল না । অপরিচিত অমিত্রাক্ষর ছন্দের ঘনঘর্ঘরমন্দ্রিত রথে চড়ে বাংলাসাহিত্যে সেই প্রথম আবির্ভূত হল আধুনিক কাব্য ‘রাজবছন্নতধ্বনি’– কিন্তু তাকে সমাদরে আহবান করে নিতে বাংলাদেশে অধিক সময তো লাগে নি । অথচ এর অনতিপূর্বকালবৰ্তী সাহিত্যের যে নমুনা পাওযা যায তার সঙ্গে এর কি মুদুর তুলনাও চলে। আমি জানি, এখনও আমাদের দেশে এমন মানুষ পাওযা যায যার সেই পুরাতন কালের অনুপ্রাসকণ্টকিত শিথিল ভাষার পৌরাণিক পাচালি প্রভৃতি গানকেই বিশুদ্ধ ন্যাশনাল সাহিত্য আখ্যা দিযে আধুনিক সাহিত্যের প্রতি প্রতিকুল কটাক্ষপাত করে থাকেন। বলা বাহুল্য, অধিকাংশ স্থলেই সেটা একটা ভাণ মাত্র। র্তারা যে স্বযং যথার্থত: সেই সাহিত্যেরই রসসম্ভোগে একান্ত নিবিষ্ট থাকেন, রচনায বা আলোচনায তার প্রমাণ পাওযা যায না। ভূনির্মাণের কোনো এক আদিপর্বে হিমালযপর্বতশ্রেণী স্থিতিলাভ করেছিল, আজ পর্যন্ত সে আর বিচলিত হ্য নি ; পর্বতের পক্ষেই এটা সম্ভবপর। মানুষের চিত্ত তো স্থাণু নষ ; অন্তরে বাহিরে চার দিক থেকেই নানা প্রভাব তার উপর নিযত কাজ করছে, তার অভিজ্ঞতার ব্যাপ্তি এবং অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে নিরন্তর ; সে যদি জড়বৎ অসাড় না হয তা হলে তার আত্মপ্রকাশে বিচিত্র পরিবর্তন ঘটবেই, ন্যাশনাল আদর্শ’ নাম দিয়ে কোনো-একটি সুদূর ভূতকালবর্তী