পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


९8७ সাহিত্যের পথে আদর্শবন্ধনে নিজেকে নিশ্চল করে রাখা তার পক্ষে স্বাভাবিক হতেই পারে না, যেমন স্বাভাবিক ন্য চীনে মেযেদের পাযের বন্ধন। সেই বন্ধনকে দ্যাশনাল নামের ছাপ দিযে গর্ব করা বিড়ম্বনা। সাহিত্যে বাঙালির মন অনেক কালের আচারসংকীর্ণতা থেকে অবিলম্বে মুক্তি যে পেযেছিল, তাতে তার চিৎশক্তির অসামান্ততাই প্রমাণ করেছে। নবযুগের প্রাণবান সাহিত্যের স্পর্শে কল্পনাবৃত্তি যেই নবপ্রভাতে উদবোধিত হল অমনি মধুস্থদনের প্রতিভা তখনকার বাংলাভাষার পাযেচলা পথকে আধুনিক কালের রথযাত্রার উপযোগী করে তোলাকে দুরাশ বলে মনে করলে না। আপন শক্তির পরে শ্রদ্ধা ছিল বলেই বাংলাভাষার পরে কবি শ্রদ্ধা প্রকাশ করলেন ; বাংলাভাষাকে নির্ভীকভাবে এমন আধুনিকতায দীক্ষা দিলেন যা তার পূর্বাহবৃত্তি থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র । বঙ্গবাণীকে গম্ভীর স্বরনির্ঘোষে মন্দ্রিত করে তোলবার জন্তে সংস্কৃতভাণ্ডার থেকে মধুস্থদন নিঃসংকোচে যে-সব শব্দ আহরণ করতে লাগলেন সেও নুতন, বাংলা প্যারের সনাতন সমদ্বিভক্ত আল ভেঙে দিযে তার উপর অমিত্রাক্ষরের যে বস্তা বইযে দিলেন সেও নুতন, আর মহাকাব্য-খণ্ডকাব্য-রচনায যে রীতি অবলম্বন করলেন তাও বাংলাভাষায নুতন । এটা ক্রমে ক্রমে, পাঠকের মনকে সইযে সইযে, সাবধানে ঘটল না ; শাস্ত্রিক প্রথায মঙ্গলাচরণের অপেক্ষা না রেখে কবিতাকে বহন করে নিযে এলেন এক মুহূর্তে ঝডের পিঠে— প্রাচীন সিংহদ্বারের আগল গেল ভেঙে | মাইকেল সাহিত্যে যে যুগান্তর আনলেন তার অনতিকাল পরেই আমার জন্ম। আমার যখন ব্যস অল্প তখন দেখেছি, কত যুবক ইংরাজিসাহিত্যের সৌন্দর্যে ভাববিহবল। শেক্সপিযর, মিল্টন, বায রন, মেকলে, বার্ক , তারা প্রবল উত্তেজনায আবৃত্তি করে যেতেন পাতার পর পাতা। অথচ তাদের সমকালেই বাংলাসাহিত্যে যে নুতন প্রাণের উদ্যম সদ্য জেগে