পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাংলাসাহিত্যের ক্রমবিকাশ २8१ উঠেছে সে তারা লক্ষ্যই করেন নি। সেটা যে অবধানের যোগ্য তাও র্তারা মনে করতেন না। সাহিত্যে তখন যেন ভোরের বেলা কারও ঘুম ভেঙেছে, অনেকেরই ঘুম ভাঙে নি। আকাশে অরুণালোকের স্বাক্ষরে তখনও ঘোষিত হয নি প্রভাতের জ্যোতির্মযী প্রত্যাশা ৷ বঙ্কিমের লেখনী তার কিছু পুর্বেই সাহিত্যের অভিযানে যাত্রা আরম্ভ করেছে। তখন অন্তঃপুরে বটতলার ফঁাকে ফঁাকে দুর্গেশনন্দিনী, মৃণালিনী, কপালকুণ্ডলা সঞ্চরণ করছে দেখতে পাই। যারা তার রস পেযেছেন র্তারা তখনকার কালের নবীনা হলেও প্রাচীনকালীন সংস্কারের বাহিরে র্তাদের গতি ছিল অনভ্যস্ত। আর কিছু না হোক, ইংরাজি তারা পড়েন নি। এ কথা মানতেই হবে, বঙ্কিম তার নভেলে আধুনিক রীতিরই রূপ ও রস এনেছিলেন। তার ভাষা পূর্ববর্তী প্রাকৃত বাংলা ও সংস্কৃত বাংলা থেকে অনেক ভিন্ন। তার রচনার আদর্শ, কি বিষযে কি ভাবে কি ভঙ্গিতে, পাশ্চাত্যের আদর্শের অনুগত তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সেকালে ইংরাজিভাষায বিদ্বান বলে র্যাদের অভিমান তারা তখনও তার লেখার যথেষ্ট সমাদর করেন নি ; অথচ সে লেখা ইংরাজিশিক্ষাহীন তরুণীদের হৃদযে প্রবেশ করতে বাধা পায নি, এ আমরা দেখেছি। তাই সাহিত্যে আধুনিকতার আবির্ভাবকে আর তো ঠেকানো গেল না। এই নব্য রচনা নীতির ভিতর দিযে সেদিনকার বাঙালি-মন মানসিক চিরাভ্যাসের অপ্রশস্ত বেষ্টনকে অতিক্রম করতে পারলে— যেন অস্থৰ্যম্পশুরূপ অন্তঃপুরচারিণী আপন প্রাচীর-ঘেরা প্রাঙ্গণের বাইরে এসে দাড়াতে পেরেছিল। এই মুক্তি সনাতন রীতির অমুকুল না হতে পারে ; কিন্তু সে যে চিরন্তন মানবপ্রকৃতির অমুকুল, দেখতে দেখতে তার প্রমাণ পড়ল ছড়িযে । এমন সমযে বঙ্গদর্শন মাসিক পত্র দেখা দিল । তখন থেকে বাঙালির চিত্তে নব্য বাংলাসাহিত্যের অধিকার দেখতে দেখতে অবারিত