পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাংলাসাহিত্যের ক্রমবিকাশ ९8x মাটিতে যদি বাধন না থাকে তবে তট কিছু কিছু ক’রে ধ্বসে পডে। ফসলের আশা হারাতে থাকে। যদি কোনো মহাবৃক্ষ সেই মাটির গভীর অন্তরে দূরব্যাপী শিকড ছডিযে দিযে তাকে এটে ধরে তা হলে স্রোতের আঘাত থেকে সে ক্ষেত্র রক্ষা পায । বাংলাদেশের চিত্তক্ষেত্রকে তেমনি করেই ছাযা দিযেছে, ফল দিযেছে, নিবিড় ঐক্য ও স্থাযিত্ব দিযেছে বাংলাসাহিত্য । অল্প আঘাতেই সে খণ্ডিত হয না । একদা আমাদের রাষ্ট্রপতিরা বাংলাদেশের মাঝখানে বেড়া তুলে দেবার যে প্রস্তাব করেছিলেন সেটা যদি আরও পঞ্চাশ বছর পূর্বে ঘটত, তবে তার আশঙ্কা আমাদের এত তীব্র আঘাতে বিচলিত করতে পারত না । ইতিমধ্যে বাংলার মর্মস্থলে যে অখণ্ড আত্মবোধ পরিস্ফুট হযে উঠেছে তার প্রধানতম কারণ বাংলাসাহিত্যে । বাংলাদেশকে রাষ্ট্রব্যবস্থায খণ্ডিত করার ফলে তার ভাষা তার সংস্কৃতি খণ্ডিত হবে, এই বিপদের সম্ভাবনায বাঙালি উদাসীন থাকতে পারে নি। বাঙালিচিত্তের এই ঐক্যবোধ সাহিত্যের যোগে বা তালির চৈতন্তকে ব্যাপকভাবে গভীরভাবে অধিকার করেছে। সেই কারণেই আজ বাঙালি যত দূরে যেখানেই যাক বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বন্ধনে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত থাকে। কিছুকাল পূর্বে বাঙালির ছেলে বিলাতে গেলে ভাষায ভাবে ও ব্যবহারে যেমন স্পর্ধপূর্বক অবাঙালিত্বের আড়ম্বর করত, এখন তা নেই বললেই চলে— কেননা বাংলাভাষায যে সংস্কৃতি আজ উজ্জল তার প্রতি শ্রদ্ধা না প্রকাশ করা এবং তার সম্বন্ধে অনভিজ্ঞতাই আজ লজ্জার বিষ্য হযে উঠেছে । রাষ্ট্ৰীয ঐক্যসাধনার তরফ থেকে ভারতবর্ষে বঙ্গেতর প্রদেশের প্রতি প্রবাস শব্দ প্রযোগ করায় আপত্তি থাকতে পারে। কিন্তু, মুখের কথা বাদ দিযে, বাস্তবিকতার যুক্তিতে ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে অকৃত্ৰিম আত্মীযতার সাধারণ ভূমিকা পাওয়া যায কি না সে তর্ক ছেড়ে দিয়েও, সাহিত্যের দিক থেকে ভারতের অন্ত প্রদেশ বাঙালির পক্ষে