পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাংলাসাহিত্যের ক্রমবিকাশ Տձ5 অন্তর্গত নয়। সাহিত্য একান্তই একলা মানুষের স্মৃষ্টি । রাষ্ট্রক বাণিজ্যিক সামাজিক বা ধর্মসাম্প্রদায়িক অনুষ্ঠানে দল বাধা আবশুক হয়। কিন্তু, সাহিত্যসাধনা যার, যোগীর মতো, তপস্বীর মতো সে একা । অনেক সময়ে তার কাজ দশের মতের বিরুদ্ধে। মধুসূদন বলেছিলেন বিরচিব মধুচক্র। সেই কবির মধুচক্র একলা মধুকরের। মধুসূদন যেদিন মৌচাক মধুতে ভরছিলেন, সেদিন বাংলায় সাহিত্যের কুঞ্জবনে মৌমাছি ছিলই বা কয়টি। তখন থেকে নানা খেয়ালের বশবর্তী একলা মামুষে মিলে বাংলাসাহিত্যকে বিচিত্র করে গড়ে তুলল। এই বহু স্রষ্টার নিভূততপোজাত সাহিত্যলোকে বাংলার চিত্ত আপন অন্তরতম আনন্দভবন পেয়েছে, সম্মিলনীগুলি তারই উৎসব। বাংলাসাহিত্য যদি দলবাধা মানুষের স্বষ্টি হত তা হলে আজ তার কী দুৰ্গতিই ঘটত তা মনে করলেও বুক কেঁপে ওঠে। বাঙালি চিরদিন দলাদলি করতেই পারে, কিন্তু দল গড়ে তুলতে পারে না। পরস্পরের বিরুদ্ধে ঘোট করতে, চক্রান্ত করতে, জাত মারতে তার স্বাভাবিক আনন্দ— আমাদের সনাতন চণ্ডীমণ্ডপের উৎপত্তি সেই “আনন্দাদ্ধ্যেব’ । মানুষের সব-চেয়ে নিকটতম যে সম্বন্ধবন্ধন বিবাহব্যাপারে, গোড়াতেই সেই বন্ধনকে অহৈতুক অপমানে জর্জরিত করবার বরযাত্রিক মনোবৃত্তিই তো বাংলাদেশের সনাতন বিশেষত্ব। তার পরে কবির লড়াইযের প্রতিযোগিতা-ক্ষেত্রে পরস্পরের প্রতি ব্যক্তিগত অশ্রাব্য গালিবর্ষণকে যার উপভোগ করবার জন্তে একদা ভিড় করে সমবেত হ’ত, কোনো পক্ষের প্রতি বিশেষ শক্রতাবশতই যে তাদের সেই দুয়ো দেবার উচ্ছসিত উল্লাস তা তো নয— নিন্দার মাদক রসভোগের নৈর্ব্যক্তিক প্রবৃত্তিই এর মূলে। আজ বর্তমান সাহিত্যেও বাঙালির ভাঙন-ধরানো মনের কুৎসামুখরিত নিষ্ঠুর-পীড়ননৈপুণ্য সর্বদাই উদ্যত। সেটা আমাদের ক্রুর অট্টহাস্তোবেল গ্রাম্য অসৌজন্যসম্ভোগের সামগ্রী । আজ তো দেখতে পাই— বাংলাদেশের