পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૭ ] সাহিত্যের পথে অনুভূতির যোগ। সেই যোগে বিশ্বের সঙ্গে আমার আত্নীযতার সম্বন্ধ। যেখানেই বিশ্বে এই আত্নীয়তার অনুভূতি জাগে সেইখানেই আমি আনন্দিত। গোলাপ ফুল আমার মনে এই আনন্দ জাগায় ; তার মধ্যে আমার সত্তা একটি পুষ্টি, একটি তুষ্টি পায়। কেরোসিনের টন দেখে মন খুশি হয় না, মাটির জলপাত্র দেখে ভালো লাগে– অথচ জল তোলার দিক থেকে দুয়ের ভেদ আমার কাছে গৌণ। আমরা খুঁজছি মনের মানুষকে ; শুধু মনের মানুষকে নয, মনের মতনকে। রূপলোকে কাব্যলোকে আমরা সেই মনের মতনকে পাই, সেইখানে আমার নিজের সত্তার আনন্দ সুগভীর। যিনি রূপ দিচ্ছেন তাকে তাই আমরা শ্রদ্ধা করি— যে রূপকার জলের পাত্রে রূপ দেন র্তাকে আমরা জলবাহক গিরধারিলালের চেযে বেশি খাতির করি । কারণ, রূপকার বাস্তবকে আমার অতি কাছে এনে দেন, রিয্যালিটির চেতনা আমার মধ্যে উজ্জ্বল করে তোলেন । নানা পদার্থের মধ্যে বাস্তব ছড়িযে আছে, তাকে অব্যবহিত বিশুদ্ধরূপে সমগ্র করে দেখতে পাই না— রসসৃষ্টির মধ্যে বাস্তব অব্যবহিতভাবে চেতনার সম্মুগে এসে দাড়ায, তার রূপ দেখতে পাই । এইজন্তে বসবার ঘরে ধোপার গাধাকে আমরা ডেকে আনি না, স্থান দিই না ; অথচ আর্টিস্ট, যখন গাধা আঁকেন বহযত্বে সেই গাধার ছবি আমরা বসবার ঘরের দেযালে ঝুলিযে রাখি । আর্টিস্টের দৃষ্টির মধ্য দিযে গাধাকে আমি দেখতে পাই, বর্ণের রেখার সমাবেশে স্থষ্টির যে রহস্ত গাধার রূপে প্রকাশ পেযেছে তাকে স্পষ্ট করে মনের মধ্যে আনতে পারি। আর্ট আমাদের মনে বাস্তবের অনুভূতি জাগিযে তোলে, আমাদের সত্তার সঙ্গে তার নিবিড় সম্বন্ধ স্থাপন করে গভীর আনন্দের চেতনা এনে দেয । ১৩৩৮ জ্যৈষ্ঠ

  • ১২ এপ্রিল ১৯৩১ তারিখে শাস্তিনিকেতন কলাভবনে ষে বক্তৃতা দেন তাহার অনুলিখন ।