পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


[ a রূপশিল্প ঐযুক্ত অৰ্দ্ধেন্দ্রকুমার গাজুলীর রূপশিল্প বইখানি পড়ে আনন্দ পেয়েছি। শরীরে যখন শক্তি থাকে যথেষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি তখন যে-কোনো একটা উপলক্ষে এমন-কি বিনা উপলক্ষে এক চোট ঘুরে আসতে ইচ্ছে হয় । মনের সম্বন্ধেও তাই । তার উদ্যমের সঞ্চয় পর্যাপ্তের চেয়ে বেশি থাকলে কারণে অকারণে কলম চালাবার জন্তে তাকে তাগাদ দিতে হয় না। আমার বর্তমান অবস্থায় তাগাদ দিয়েও ফল পাওয়া কঠিন হযেছে, তবু এইমাত্র পড়া শেষ করেই উঠে পড়েছি উৎসাহের তাজা অবস্থায কিছু একটা লিখে ফেলবার জন্তে । উৎসাহের কারণ আছে। চিত্রকলার স্বকীয রহস্যটা যে কী তা আমি কখনো কখনো বোঝাতে ইচ্ছা করেছি, কিন্তু ভালো করে বুঝিযে উঠতে পারি নি। শিল্পরসিক অৰ্দ্ধেন্দ্রকুমার এই অল্প কযেকটি পাতায সেই কথাটি বুঝিযেছেন। তার ভাষা যেমন সহজ তেমনি সরস । এই রচনায পাণ্ডিত্য বোঝা হযে উঠে লেখনীকে মন্থর করে তোলে নি । বিষযটা তর্কের নয, বোধের । সেই জন্যেই সহজ নয তাকে সহজে বোঝানো । সমস্ত রসস্থষ্টির আদর্শ যে তার নিজেরই মধ্যে, তার বাইরে নয়, এ কথাটা অন্তত চিত্রকলায সাধারণ লোকে সহজে মানতে চায না । কোকিল-কণ্ঠের প্রশংসা অনেক শোনা গেছে, কিন্তু কোকিলের কুহু কুহু ডাকের অবিকল অনুকরণেই যে কণ্ঠের সার্থকতা, অর্থাৎ হরবোলাই যে সব চেযে বড়ো ওস্তাদ, এমন কথা কেউ বলে না । মেঘমল্লারে যখন বর্ষার গান চলে তখন তার মধ্যে না থাকে ঝর ঝর বৃষ্টির অনুকরণ, না থাকে ঘড় বড় বজের ডাক। তবু কোনো বাস্তববিলাসী তাকে অবাস্তব বলে নিন্দ্রে করে না। অথচ ছবির মধ্যে এমন একটা জীবের চেহারা