পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


९७ কবির কৈফিয়ত আমরা যে ব্যাপারটাকে বলি জীবলীল পশ্চিম সমুদ্রের ও পারে তাকেই বলে জীবনসংগ্ৰাম । , ইহাতে ক্ষতি ছিল না। একটা জিনিসকে আমি যদি বলি নৌকাচালানো আর তুমি যদি বল দাড়-টানা, একটি কাব্যকে আমি যদি বলি রামাযণ আর তুমি যদি বল রাম-রাবণের লড়াই, তাহ লইয আদালত করিবার দরকার ছিল না । কিন্তু মুশকিল হইযাছে এই যে, কথাটা ব্যবহার করিতে আমাদের আজকাল লজ্জা বোধ হইতেছে । জীবনটা কেবলই লীলা ! এ কথা শুনিলে জগতের সমস্ত পালোযানের দলেরা কী বলিবে, যাহারা তিন ভুবনে কেবলই তাল ঠুকিয। লড়াই করিয৷ বেড়াইতেছে! আমি কবুল করিতেছি, আমার এখানে লজ্জা নাই। ইহাতে আমার ইংরেজি-মাস্টার তার সবচেযে বডো শব্দভেদী বাণটা আমাকে মারিতে পারেন— বলিতে পারেন, ওহে, তুমি নেহাত ওরিযেণ্টাল। কিন্তু তাহাতে আমি মারা পডিব না । ‘লীলা বলিলে সবটাই বলা হইল, আর লড়াই বলিলে লেজামুডা বাদ পড়ে। এ লডাইযেব আগাই বা কোথায আর গোডাই বা কোথায । ভাঙ-খোর বিধাতার ভাঙের প্রসাদ টানিয। এ কি হঠাৎ আমাদের একটা মত্তত । কেন রে বাপু, কিসের জন্তে খামক লড়াই । বাচিবার জন্ত । আমার না-হক বাচিবার দরকার কী । না বাচিলে যে মরিবে । না-হষ মরিলাম ।