পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२२ ] সাহিত্যের পথে প্রিয বলছেন— চুড়াটি তোমার যে রঙে রাঙালে, প্রিয, সে রঙে আমার চুনরি রাঙিযে দিযে। এ কাব্য। এর মধ্যে একটি হৃদযাবেগ নিবিড় হযে আছে ; কানাডার স্পর্শে সে উচ্ছলিত হযে উঠল, কিন্তু শুধুমাত্র কানাডার আলাপে এর বাণী থাকে বোবা হযে। বাণীর যোগে কানাডা একটি বিশেষ রস পেযেছে, তার দাম কম নয। চিরদিনই মানুষ কথার সঙ্গে সুর জডিযে গান গেযে এসেছে— সুর বড়ো কি কথা বডে এ তর্ক ওঠেই নি। যদি নিতান্তই তর্ক তোলা হয় তা হলে আমি বলব, এ ক্ষেত্রে সংগীতই স্বামী— ভাষাকে সে আপন গোত্রে তুলে নিযেছে। এই দাম্পত্যকে মানুষ চিরদিনই স্বীকার করেছে আনন্দের সঙ্গে । একটি পুবানো গান আছে : কাল আসিবে বলে গেল, কেন এল না । —এ তো একটা সংবাদ মাত্র, কিন্তু খাম্বাজ সুরের জিযনকাঠি লগিলামাত্র সংবাদেব নিজীবতা থেকে শিল্পের প্রাণলোকে বাণীটি মাথা তুলে উঠল। এমনি করেই পাবসিক রূপকার নিত্যব্যবহাবের জিনিসকে শিল্পের অমবাবতীতে উত্তীর্ণ করে দিযেছে । যারা মবে কথা মিলিযে দিযে গান রচনা করেন তাদেবও ঐ এক উদ্দেশু । এই উদ্দেশু্যে সংগীতেরই সার্থকতা অগ্রগণ্য । গ্রন্থকর্তা গ্রন্থের আরম্ভেই পার্টিশনেব মামলা তুলেছেন। তিনি ভাষা ও সুরের মধ্যে ‘পিপদমান বৈরীভাব দেখতে পেযেছেন । তা যদি সত্য হত ত| 2 ,শ সাহিত্যে কাব্যের স্থান থাকত না । কবিতায আছে অগীত সংগীত, তার সীমানায যদি গীত সংগীতের ব্যবধাম অলঙ্ঘ্য হয তা হলে তো স্বভাবতই গানের স্বষ্টি হতে পারে না। কোনো নারীর পাযে চলার ভঙ্গী সুন্দর হতে পারে, কিন্তু যদি তার মন লাগে তা হলে সে কি তার সেই ভঙ্গীকে